প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে অহংকারের পতন যে কতটা নির্মম হতে পারে, তা দেখতে এখন আর ইতিহাসের পাতা ওল্টাতে হয় না, তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান অবস্থার দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। ২০২৬ সালের মে মাসে নবান্ন হাতছাড়া হওয়ার পর ক্ষমতা এখন সগৌরবে বিজেপির হাতে। কিন্তু ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর জোড়াফুলের অন্দরে যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়েছে, তা দেখে এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও অবাক হচ্ছেন। বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলাতে না পেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দলের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি এক ঝটকায় ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আসল সংঘাতটা শুরু হয়েছে বিধানসভায়, বিরোধী দলনেতার চেয়ার নিয়ে।একদিকে আছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি নিজের রাজনৈতিক আখের গোছাতে লাল থেকে নীল-সাদা, আর এখন কোন শিবিরে নাম লেখাবেন তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। আর অন্যদিকে আছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি এখন প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশ্ন তুলছেন— “পার্টির যে সদস্য নয়, সে কীভাবে বিরোধী দলনেতা?”

প্রথমে বাম আমলের যুবনেতা হিসেবে বড় বড় তত্ত্ব আওড়াতেন, তারপর ঘাসফুলের টিকিট ধরে তৃণমূলের বিধায়ক হলেন। আর এখন দল ক্ষমতা হারানো মাত্রই প্রায় ৫৮ জন বিধায়ককে সাথে নিয়ে নিজেই বিরোধী দলনেতা সেজে বসে পড়লেন! নীতি-আদর্শের এমন চমৎকার রূপবদল বাংলায় সত্যিই বিরল। বলি ঋতব্রতবাবু, আজ যে বিধায়কদের সই নিয়ে স্পিকারের ঘরে গিয়ে সিংহাসন দাবি করছেন, কাল সকালে যদি হাওয়া ঘোরে, তবে আবার কোন নতুন শিবিরে নোঙর ফেলবেন, সেই চিত্রনাট্যও কি তৈরি?

কল্যাণবাবু এখন ভারী সুন্দর সুন্দর সংসদীয় রীতির বুলি আওড়াচ্ছেন। ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলছেন, ঋতব্রত তো তৃণমূলের সদস্যই নন, তাহলে ওনাকে কেন নেতা করা হবে! সাবাশ কল্যাণবাবু! আপনাদের যখন সুদিন ছিল, তখন অন্য দলের বিধায়কদের ভাঙিয়ে এনে রাতারাতি নিজেদের মঞ্চে শামিল করাতেন না? আজ যখন একনায়কতন্ত্রে বীতশ্রদ্ধ হয়ে আপনাদেরই ঘরের বিধায়করা অন্য পথ ধরছেন, তখন সই জালিয়াতির কাঁদুনি গাইছেন? একেই বোধহয় বলে— ‘যেমন কর্ম, তেমন ফল’!

আজ যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা দাবি করছেন “আসল তৃণমূল দিদির সাথেই আছে”, তাঁদের মনে করিয়ে দেওয়া ভালো—দলটা আজ শাসক থেকে স্রেফ ৮০টি আসনের এক ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়েছে। যে দলের বিধায়করা নিজেদের দলের হাইকমান্ডের ওপর আস্থা হারিয়ে একজন বহিষ্কৃত নেতাকে ত্রাতা মনে করছেন, সেই দলের করুণ অবস্থা বুঝতে কোনো রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

একদিকে ক্ষমতার লোভে ঋতব্রতর ছক, অন্যদিকে ক্ষমতা হারিয়ে দিশেহারা কল্যাণবাবুদের ছটফটানি। পিসি-ভাইপোর ১৫ বছরের অহংকার আজ ধুলোয় মিশে গেছে। নবান্ন তো আগেই গেছে, এবার বিধানসভার বিরোধী বেঞ্চের রাশও হাতছাড়া হচ্ছে কালীঘাটের। খেলা কিন্তু আসলেই শেষ, এবার শুধু বাকি থাকা দেওয়ালটুকু ধসে পড়ার অপেক্ষা।