প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গ এখন বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং রাজ্য সরকার শিল্প ও ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কলকাতার তাজ বেঙ্গলে বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BCCI) আয়োজিত ‘বিকশিত বাংলা’ (Vikasit Bengal) অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায়ও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, রাজ্যকে একটি ব্যবসায়িক-অনুকূল বা ‘প্রো-বিজনেস’ রাজ্য হিসেবে তুলে ধরার জন্য তিনি বাজেট বক্তৃতার মূল স্ক্রিপ্ট থেকে সরে এসেও বড় ঘোষণা করতে দ্বিধা করেননি। ওড়িশা বা অসমের মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ যাতে সমান সুযোগ (Level Playing Field) পায়, তা নিশ্চিত করবে সরকার। শিল্পস্থাপনের পথ মসৃণ করতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, এখন থেকে এক মাসের মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় সরকারি ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে এখন থেকে সমস্ত দোকান, শপিং মল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ২৪ ঘণ্টা (24×7) খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হবে। আসন্ন দুর্গাপূজার আগেই রাজ্যে শিল্পের প্রসারে একাধিক নতুন পলিসি বা নীতি আনা হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে:গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) পলিসি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) মিশন, মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ নীতি ও ক্লাউড কিচেন পলিসি।
শিল্প ও নগরোন্নয়নকে শুধু কলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দুর্গাপুর, আসানসোল এবং শিলিগুড়িকে প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অর্থমন্ত্রী জানান, বাজেটে আসানসোল-দুর্গাপুর এবং শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ির মধ্যে মেট্রো সংযোগের জন্য প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (Feasibility Study) প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাজ বেঙ্গলের এই অনুষ্ঠান থেকে রাজ্য সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীদের এই যৌথ বার্তা শিল্পমহলে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবং আগামী দিনে রাজ্যে বড় বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করবে।