প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-স্বাধীনতা দিবসের পুণ্যলগ্নে রাজ্য জুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মাঝেই আন্তর্জাতিক চর নেটওয়ার্কের বড়সড় পর্দা ফাঁস করল রাজ্য পুলিশ। পূর্ব বর্ধমান থেকে জঙ্গি যোগে ধৃত হামিম মণ্ডল এবং উত্তর ২৪ পরগনা থেকে পাক চর রানা রউফ গ্রেফতারের পর, এবার রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF)-এর জালে ধরা পড়ল আরও ৩ জন সন্দেহভাজন ‘আইএসআই এজেন্ট’। স্বাধীনতা দিবসের দিনেই এই মেগা অভিযানে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি আগস্ট মাসের শুরুতেই পূর্ব বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হামিম মণ্ডলকে। এর ঠিক পরেই, গত ১২ আগস্ট উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর সন্দেহভাজন চর রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে। রানা রউফকে জেরা করে এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (Central Agency) তরফ থেকে পাওয়া নির্দিষ্ট ইনপুটের ওপর ভিত্তি করে আজ, ১৫ আগস্ট ২০২৬ (বৃহস্পতিবার), রাজ্য পুলিশের এসটিএফ দল এরাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে এই ৩ নতুন সন্দেহভাজন এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের সাথে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সরাসরি যোগাযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশি সূত্রে প্রকাশ, ধৃত এই এজেন্টরা মূলত ভারতের বিভিন্ন সক্রিয় মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ করার কাজে লিপ্ত ছিল। ভুয়ো নথির সাহায্যে বা অন্য উপায়ে সংগৃহীত এই ভারতীয় সিম কার্ডগুলি সীমান্ত পার করে সরাসরি ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। পরবর্তীতে সেই ভারতীয় নম্বরগুলি ব্যবহার করে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর হ্যান্ডলাররা ভারতের বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য ও প্রতিরক্ষামূলক ডেটা হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত চালাত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।স্বাধীনতা দিবসের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল দিনে এই ৩ সন্দেহভাজন এজেন্টের গ্রেফতারি রাজ্য তথা দেশের সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক মস্ত বড় সাফল্য বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে কলকাতার এসটিএফ সদর দফতরে এনে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।