প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী হিসেবেই শুধু নয়, হুগলির রিষড়া-শ্রীরামপুর শিল্পাঞ্চলে শাকির আলি (সাকির আলি) একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। রিষড়া পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান তৃণমূল কাউন্সিলর শাকির আলির এনআইএ-র হাতে গ্রেফতারি তাই কেবল একটি আইনি পদক্ষেপ নয়, এটি হুগলি জেলার তৃনমূলের অন্দরেও এক বড়সড় ঝাঁকুনি।

হুগলির রিষড়া এবং শ্রীরামপুর চত্বরে শাকির আলি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে এই শিল্পাঞ্চলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ও হিন্দিভাষী শ্রমিক বলয়ের ওপর তাঁর দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র দাপট রয়েছে। দলের অন্দরে তিনি একজন দক্ষ ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ বা ভোট পরিচালক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রিষড়া পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে পরপর জিতে তিনি নিজের রাজনৈতিক জমি তৈরি করেছিলেন।

শাকির আলির রাজনৈতিক ক্ষমতা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায় যখন তাঁর স্ত্রী অপরূপা পোদ্দার (আফরিন আলি) ২০১৪ সালে আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালেও অপরূপা পুনরায় সাংসদ হন। এই দীর্ঘ ১০ বছর আরামবাগের সাংসদ প্রতিনিধি হিসেবে দিল্লির অলিন্দে অপরূপা থাকলেও, হুগলি জেলার সমীকরণ এবং রিষড়ার রাশ নিজের হাতেই রেখেছিলেন শাকির। শ্রীরামপুর লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষ হিসেবেও রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ছিলেন তিনি।

এলাকায় সমাজসেবামূলক কাজের পাশাপাশি শাকির আলির বিরুদ্ধে বাহুবলী ভাবমূর্তির অভিযোগও কম ছিল না। বিরোধীদের দাবি, রিষড়া ও শ্রীরামপুর জুটমিল সংলগ্ন এলাকায় প্রোমোটিং, সিন্ডিকেট এবং স্থানীয় ব্যবসার ওপর তাঁর অনুগামীদের কড়া নিয়ন্ত্রণ ছিল। ২০২৩ সালের রামনবমীর অশান্তির সময়েও তাঁর নাম জড়িয়েছিল, যা আজ তাঁকে এনআইএ-র লকআপ পর্যন্ত পৌঁছে দিল। এই দাপুটে নেতার গ্রেফতারি রিষড়ায় তৃণমূলের স্থানীয় সংগঠনে কতটা বড় শূন্যতা তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার।