প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতার রাজাবাজারে ‘মমতা তৃণমূল’-এর ছাত্র-যুবদের মেগা মিছিল ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল। কিন্তু এই গোটা কর্মসূচিতে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি রাজনৈতিক মহলকে নাড়া দিয়েছে, তা হলো—যে নেত্রীর নামে এই আন্দোলন, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কোথায় ছিলেন? মঙ্গলবার যখন রাজাবাজার মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে দলের নিচুতলার কর্মীরা ঘাম ঝরাচ্ছেন, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছেন, তখন খোদ দলনেত্রীকে আন্দোলনের ময়দানে কোথাও দেখা যায়নি। এই নিয়ে এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী শিবির।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনুপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অলিন্দে কটাক্ষের বন্যা বয়ে গিয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের স্পষ্ট অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই আন্দোলনের নামে নিচুতলার কর্মীদের পুলিশের লাঠি বা আইনি জটিলতার মুখে ঠেলে দিতে ভালোবাসেন। বিজেপি শিবিরের এক শীর্ষ নেতার কড়া আক্রমণ, “ক্ষমতা হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বড্ড বেশি ঘরের মানুষ হয়ে গিয়েছেন। দিল্লির রাজপথে দাঁড়িয়ে যিনি বড় বড় ভাষণ দেন, তিনি কলকাতার রাজাবাজারে কর্মীদের পুলিশের মুখে ফেলে নিজে কালীঘাটের এসিরুমে বসে রইলেন কেন?” রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বর্তমান বিজেপি সরকারের পুলিশ যে অনুমতিহীন মিছিলে এক চুলও ছাড় দেবে না, তা অত্যন্ত সুকৌশলে আন্দাজ করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই কারণেই কি নিজেকে আইনি খাঁড়া থেকে বাঁচাতে দোলা সেন বা কুণাল ঘোষদের বলির পাঁঠা বানালেন তিনি? এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অতীতে যিনি যেকোনো ছোটখাটো বিষয়েও কলকাতার রাজপথ স্তব্ধ করে ধরনায় বসে পড়তেন, আজ তাঁর এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ বা আন্দোলনের ময়দান থেকে ‘পলায়ন মনোবৃত্তি’ দলের কর্মীদেরও হতাশ করেছে। রাজাবাজারের মিছিলে আসা একাধিক সাধারণ কর্মীর মনেও এখন চোরা ক্ষোভ—নেত্রী যদি নিজেই না আসেন, তবে কর্মীরা কেন ঝুঁকি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে মারপিট করবে? সমালোচকদের দাবি, নবান্ন হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দাপট কার্যত অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনের কড়া আইনি ব্যবস্থার ভয়েই কি তবে তটস্থ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী? কর্মীদের রাজাবাজারের রাস্তায় ঠেলে দিয়ে নিজে কালীঘাটের মিলন সঙ্ঘের পুজো উদ্বোধনে ফিতে কাটতে ব্যস্ত থাকা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এখন আন্দোলনের চেয়ে উৎসবের আলো অনেক বেশি নিরাপদ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মঙ্গলবার রাজাবাজারের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে নেত্রীর অনুপস্থিতিতে এই দলটা কতটা দিশাহীন। পুলিশ মিছিল আটকাতেই ম্যাটাডোরের ওপর দাঁড়িয়ে কুণাল ঘোষদের দায়সারা ভাষণ দিয়ে রণে ভঙ্গ দেওয়া দেখে স্পষ্ট, শীর্ষ নেতারাও খোদ নেত্রীর সায় ছাড়া বেশিক্ষণ রাস্তায় থাকার সাহস পাননি। সব মিলিয়ে, রাজাবাজারের এই ‘ফ্লপ শো’ এবং আন্দোলনের ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস যোগ্যতাকে আরও বড়সড় ধাক্কা দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।