প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তিনি একসময় রাজ্য পুলিশের ডিজি ছিলেন। আর সেই সময় বিরোধীরা অভিযোগ করতো যে, রাজীব কুমার তৃণমূলের। দলদাস হয়ে কাজ করছেন পরবর্তীতে তিনি ডিজি পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসে যুক্ত হয়েছেন। এখন তিনি তৃণমূলের টিকিটের রাজ্যসভায় যাচ্ছেন। তবে এখন শুধুমাত্র তার পরিচয়, তিনি একজন তৃণমূলের নেতা। সাংসদ এখনও পর্যন্ত তিনি হননি। কিন্তু আজ যখন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন রাজীব কুমার, যখন তিনি গাড়ি থেকে নামছিলেন, তখন তাকে এক পুলিশ কর্মী স্যালুট দেন। আর যিনি শুধুমাত্র তৃণমূলের নেতা হিসেবে রয়েছেন, তাকে কেন পুলিশ এইভাবে স্যালুট দিচ্ছে? এবার তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়ে পুলিশের এই অধঃপতন নিয়ে সোচ্চার হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এই রাজ্যে পুলিশ এবং তৃণমূলের মধ্যে যে এখন কোনো প্রকারভেদ নেই, সেই ব্যাপারে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এনেছে বিরোধীরা। প্রতিনিয়ত রাজ্যের বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, পুলিশ তৃণমূলের থেকে সরে গেলে তৃণমূল বলে এই রাজ্যে কিছু থাকবে না। এতদিন যিনি রাজ্য পুলিশের ডিজি ছিলেন, সেই রাজীব কুমার কতটা দলদাসের মত কাজ করতেন, তা এখন দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এক সময় বিরোধীরা অভিযোগ করত, এই রাজীব কুমার তৃণমূলের দলদাস হয়ে কাজ করছেন। আর এখন দেখা যাচ্ছে, সেই রাজীব কুমার নিজের অবসর জীবনের পরেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ফলে বিরোধীদের সেই দাবি যে সত্য হয়ে গেল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আজ সেই রাজীব কুমার শুধুমাত্র তৃণমূল নেতা হিসেবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করতে যাওয়ার সময় যেভাবে তাকে এক পুলিশকর্মী স্যালুট করলেন, তাতে বিরোধীদের এই তৃণমূলের সঙ্গে পুলিশের যে দলদাসের একটা অভিযোগ উঠেছিল, তা আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “আজ যখন রাজীব কুমার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে যান, উনি এখন সাংসদও নন। বিকেল তিনটের পরে যদি সার্টিফিকেট পান, তখন সংসদ হবেন। তাও হবেন না। কারণ যতক্ষণ না রাজ্যসভায় শপথ নেওয়া হয়, ততক্ষণ তিনি সাংসদ হন না। তাকে আজকে মমতা পুলিশের লোকেরা যেভাবে ধপাধপ স্যালুট দিচ্ছিল, তাতে পুলিশের কতটা অধঃপতন হয়েছে, তারা কতটা পার্টি তন্ত্রের সঙ্গে নিজেদের মিশিয়ে ফেলেছে, তার আরও একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ।”