প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, তার আগেই পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরে তৃণমূলের গৃহযুদ্ধ আছড়ে পড়ল রাজপথে। যাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিলো এলাকা। রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হতেই নিজের দলেরই কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হতে হল তাঁর অনুগামীদের। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন। শেষমেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতে হয় পুলিশকে। কিন্তু এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত কি আদতে বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত করে দিলো? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পেশ করা পরিসংখ্যান কিন্তু সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে।
ঘটনার নেপথ্যে কী? স্থানীয় সূত্রে খবর, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণার পর তাঁর অনুগামীরা বাজি ফাটিয়ে উল্লাস করছিলেন। ঠিক তখনই বর্তমান ব্লক সভাপতি আহমেদ হোসেনের অনুগামীরা তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। আদতে বহিরাগত বনাম ভূমিপুত্রের লড়াইয়ে কার্যত ছারখার হয়ে গেল তৃণমূলের তথাকথিত ‘সংহতি’। আহমেদ হোসেনের গোষ্ঠীর দাবি, এলাকায় সিদ্দিকুল্লার গ্রহণযোগ্যতা শূন্য। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়ে বর্তমানে বেশ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই বিশৃঙ্খলা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের ওপর নীচুতলার কর্মীদের আর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মন্তেশ্বরের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব স্রেফ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি এক গভীর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পূর্বাভাস। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল বিপুল ব্যবধানে জিতলেও, বিগত লোকসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনের ট্রেন্ড বলছে, গ্রামীণ মন্তেশ্বরে বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছিল। যেখানে বিজেপির ভোট শতাংশ প্রায় ৩৫ শতাংশ থেকে ৩৮ শতাংশের ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল, সেখানে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন সেই ফারাক আরও কমিয়ে আনবে। ফলে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে ঘিরে খোদ মুসলিম প্রধান এলাকাতেই আহমেদ হোসেনের অনুগামীদের বিদ্রোহ প্রমাণ করছে যে, তৃণমূলের চিরাচরিত ‘ভোটব্যাঙ্ক’ আজ দ্বিধাবিভক্ত। এই বিভাজনের সরাসরি লাভ ঘরে তুলবে বিজেপি।
বিজেপির জেলা নেতৃত্বের দাবি, “তৃণমূল এখন একটি ডুবন্ত জাহাজ। মন্তেশ্বরের মানুষ দেখছেন কীভাবে পদের লোভে ওরা নিজেদের মধ্যে রক্তপাত করছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষমতা ওদের নেই। মানুষ এবার শান্তিস্থাপনে পদ্মফুলকেই বেছে নেবেন।” বিশেষজ্ঞদের মতে, মন্তেশ্বরে যদি আহমেদ হোসেনের গোষ্ঠী নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকে অথবা তলে তলে সিদ্দিকুল্লার বিরোধিতা করে, তবে তৃণমূলের অন্তত ১০-১৫ শতাংশ ভোট সরাসরি বিজেপির ঝুলিতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তেমনটা হলে, মন্তেশ্বরের ফলাফল হবে রাজ্যের অন্যতম বড় অঘটন।এখন দেখার, পুলিশি লাঠিতে সাময়িক উত্তেজনা কমলেও, ব্যালট বক্সে তৃণমূলের এই অন্তর্কলহের কত বড় মাসুল দিতে হয়। তবে আপাতত মন্তেশ্বরের হাওয়া বলছে— ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন’ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।