প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণভঙ্কা বেজে উঠতেই রাজ্যজুড়ে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডিতে এক বিশাল জনসভা থেকে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি সাফ জানান, পুলিশ যদি শাসকদলের ক্যাডার হিসেবে কাজ করা বন্ধ করে ‘সোজা’ হয়ে যায়, তবে রাজ্যে তৃণমূলের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

কুশমণ্ডির সভা থেকে সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং আইসি (IC) সরাসরি তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “পুলিশ যদি সোজা হয়ে যায় এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ শুরু করে, তাহলে আগামী দিনে তৃণমূলের পার্টি অফিস খোলার লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।” তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের সমর্থন হারিয়ে তৃণমূল এখন শুধুমাত্র পুলিশের লাঠির জোরে টিকে রয়েছে।

বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হচ্ছে যে, রাজ্যে বিরোধী কর্মীদের ওপর হওয়া হামলায় পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে থাকছে। গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের কয়েক হাজার অভিযোগ জমা পড়লেও পুলিশের চার্জশিট দেওয়ার হার অত্যন্ত নগণ্য।

সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট একাধিকবার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং তদন্তে পুলিশের গাফিলতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে সন্দেশখালি বা আরজি কর-কাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকেই হাতিয়ার করছে বিজেপি।

ভোটের মুখে রাজ্য পুলিশের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে বিজেপি ইতিপূর্বেই বেশ কিছু অভিযোগ করেছে। রাজ্যের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী পুলিশ আধিকারিককে ইতিমধ্যেই বদলি করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সুকান্ত মজুমদারের এই বক্তব্য সেই চাপকে আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সুকান্ত মজুমদার এদিন স্পষ্ট করে দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ পুলিশ আধিকারিকদের জবাবদিহি করতে হবে। কুশমণ্ডির এই সভা থেকে কর্মীদের উজ্জীবিত করে তিনি বলেন, ভয় পাওয়ার দিন শেষ, এবার পরিবর্তনের পালা।