প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ভোটের মুখে ফের রক্তাক্ত বাংলার মাটি। এবার নদিয়ার রানাঘাটে সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভেতরেই এক প্রাথমিক শিক্ষককে নৃশংসভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠলো তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত শিক্ষকের রক্তাক্ত ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ‘আইনহীন’ বলে তোপ দেগেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউশন ফর বয়েজ স্কুলে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ চলাকালীন এই নক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। আক্রান্ত শিক্ষক সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সম্বলিত বিজ্ঞাপনের বিরোধিতা করায় তাঁর ওপর চড়াও হয় কিছু ব্যক্তি।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রানাঘাট ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসের কিছু কর্মী এবং তৃণমূলের পেশিশক্তি সম্পন্ন দুষ্কৃতীরা ওই শিক্ষককে ঘিরে ধরে লাথি, ঘুসি ও চড় মারে। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে জামা ছিঁড়ে নিগৃহীত করার পাশাপাশি প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে শেয়ার করে বিষ্ফোরক মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লিখেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে পশ্চিমবঙ্গ এখন পুরোপুরি আইনহীন। এখানে গুণ্ডারাই প্রশাসন চালাচ্ছে।” তাঁর দাবি, রানাঘাট ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসের কর্মীরা তৃণমূলের ক্যাডারের মত আচরণ করছেন। শিক্ষক থেকে চিকিৎসক— এই রাজ্যে কেউই নিরাপদ নন বলে সরব হয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি যেহেতু নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ চলাকালীন ঘটেছে, তাই সরাসরি ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে খুনের চেষ্টা ও মারধরের ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করার এবং তাঁদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিজেপির দাবি, হার নিশ্চিত জেনেই তৃণমূল এখন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। রানাঘাট এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।