প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা কি উত্তরবঙ্গ থেকেই বেজে গেল? মঙ্গলবার গঙ্গারামপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি মন্তব্যকে ঘিরে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বৈশাখী ও পয়লা বৈশাখের শুভক্ষণকে হাতিয়ার করে শাহ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাক দিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তায় নিছক আক্রমণ নয়, বরং লুকিয়ে আছে এক গভীর গাণিতিক ও কৌশলগত সমীকরণ।

গঙ্গারামপুরের ঠাসা জনসভায় শাহ বলেন, “আজ বৈশাখী। পঞ্জাবে এবং দেশব্যাপী এটি খুব বড় একটি উৎসব। কাল ১৫ এপ্রিল, পয়লা বৈশাখ। বাঙালি নববর্ষ শুরু হচ্ছে। বাংলা নববর্ষের দিন দিদিকে টাটা বাই-বাই বলতে হবে। আপনারা সকলে দিদিকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য তৈরি তো?”

শাহ খুব সচেতনভাবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব ‘পয়লা বৈশাখ’কে বেছে নিয়েছেন। নতুন বছরে পুরনোকে বিদায় জানানোর যে রীতি বাঙালির রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে, তাকেই রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে ব্যবহার করেছেন তিনি। ২০১৯ এবং ২০২১-এর পরিসংখ্যান বলছে, উত্তরবঙ্গে বিজেপির জনভিত্তি অত্যন্ত মজবুত। গঙ্গারামপুরের এই সভায় ভিড় প্রমাণ করেছে যে, এই অঞ্চলটি বিজেপির দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে উঠে আসছে। শাহের এই ডাক আসলে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার একটি মাস্টারস্ট্রোক। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি আসনে জয়লাভ করলেও, ভোট শতাংশের হিসেবে গেরুয়া শিবির আগের তুলনায় অনেকটাই শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ বাংলায় এবং তফশিলি জাতি-জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের ‘টাটা বাই-বাই’ স্রেফ স্লোগান নয়, এটি ২০২৬-এর লক্ষ্যে মোদী-শাহ জুটির একটি সুচিন্তিত নীল নকশা।

পয়লা বৈশাখের সূচনালগ্নে অমিত শাহের এই হুঙ্কার কি সত্যিই বাংলার ক্ষমতার অলিন্দে কোনো বড় বদল আনবে? গঙ্গারামপুরের মাটি থেকে ওঠা এই আওয়াজ কি নবান্ন পর্যন্ত পৌঁছাবে? সময় তার উত্তর দেবে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—বাংলার মাটিতে পদ্ম শিবির এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক এবং আত্মবিশ্বাসী।