প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতির তদন্তের মাঝেই এবার শোরগোল পড়ে গিয়েছে খাস কলকাতা পুলিশের অন্দরে। দীর্ঘ টালবাহানা আর হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ার পর, অবশেষে সোনা পাপ্পু ও জমি জালিয়াতি মামলায় ইডির (Enforcement Directorate) কড়া স্ক্যানারে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (Special Branch) শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস। আজই তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই মামলার কেন্দ্রে রয়েছে কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু (আসল নাম বিশ্বজিৎ পোদ্দার) এবং প্রোমোটার জয় কামদার। অভিযোগ, জাল নথির মাধ্যমে জমি দখল এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ তছরুপ করা হয়েছে। এই চক্রের শিকড় কত গভীরে, তা খতিয়ে দেখতে গিয়েই উঠে এসেছে পুলিশের এই শীর্ষকর্তার নাম।

গত ১৯ এপ্রিল ডিসি শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের বালিগঞ্জের বাসভবনে টানা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই তল্লাশিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। গত রবিবারও ইডি কলকাতার আনন্দপুর ও আলিপুরে দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকে নগদ ১০ লক্ষ টাকা এবং প্রচুর পরিমাণে সোনার গয়না বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার সাথে এই জালিয়াতি চক্রের যোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধুমাত্র শান্তনু বিশ্বাসই নন, তাঁর দুই ছেলেও বর্তমানে ইডির নজরে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রোমোটার জয় কামদারের সাথে তাঁদের ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।

সূত্রের খবর, শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস যখন কালীঘাট থানার ওসি (OC) ছিলেন, সেই সময় থেকেই সোনা পাপ্পু ও জয় কামদারের সাথে তাঁর বিশেষ ‘ঘনিষ্ঠতা’ তৈরি হয়েছিল। গত সপ্তাহে তাঁকে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি এবং তাঁর আইনজীবী আরও সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু ইডি এবার আর কোনো ঢিলেমি দিতে নারাজ। আজই তাঁকে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য চূড়ান্ত নোটিস পাঠানো হয়েছে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— ডিসি পদমর্যাদার কোনো আধিকারিক কি সরাসরি এই চক্রে যুক্ত নাকি তিনি প্রভাব খাটিয়ে কাউকে আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন? যদিও কোনো অভিযোগই এখনও প্রমাণিত নয় এবং পুরো বিষয়টিই তদন্তাধীন। তবে ইডির এই সক্রিয়তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই মামলার জল অনেক দূর গড়াতে পারে।

আজকের এই হাজিরা থেকে নতুন কোনো তথ্য সামনে আসে কি না এবং সিজিও কমপ্লেক্স থেকে তিনি স্বস্তিতে ফিরতে পারেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা শহর।