প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ভোট-পরবর্তী অশান্তি ও রাজনৈতিক হিংসার একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার অত্যন্ত কড়া ও নজিরবিহীন অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের সার্বিক শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করছে, তা বিস্তারিত জানিয়ে আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে সবিস্তার হলফনামা পেশ করার চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের এই নির্দেশে এই মুহূর্তে প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে সবচেয়ে বড় চমক ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক উপস্থিতি। রাজনৈতিক এবং আইনি মহলের সমস্ত জল্পনা সত্যি করে, তিনি নিজেই কালো গাউন ও আইনজীবীর প্রথাগত পোশাকে সশরীরে প্রধান বিচারপতির এজলাসে হাজির হন। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলীয় কর্মী ও কার্যালয়ের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এই জনস্বার্থ মামলাটি (PIL) দায়ের করেছিলেন আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় কর্মীদের জন্য আইনি লড়াই দিতে এবং রাজনৈতিক বার্তা ছড়াতে খোদ তৃণমূল নেত্রীর এই আইনজীবী রূপে কোর্টে অবতীর্ণ হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক রাজনৈতিক চাল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি সওয়াল করে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়”। তবে শুনানি শেষে আদালত চত্বর থেকে বেরোনোর সময় তাঁর উদ্দেশে তীব্র ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়, যা নিয়ে পরবর্তীতে কোর্ট চত্বরে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়।

নির্বাচন মেটার পর রাজ্যের ঠিক কোথায় কী অশান্তি হয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি সামলাতে কী কী আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে— তার পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান হলফনামা আকারে ৩ সপ্তাহের মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে। আদালত স্পষ্ট ভাষায় পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে, অপরাধী বা উস্কানিদাতা যে দলেরই হোক না কেন, কোনো রকম রাজনৈতিক চাপ বা রঙের তোয়াক্কা না করে তৎক্ষণাৎ কড়া আইনি পদক্ষেপ করতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে আইন অনুযায়ী সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার সম্পূর্ণ ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়া হয়েছে।নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বাংলায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তা আদালতের এই নির্দেশেই প্রমাণিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিগত দিনে বিভিন্ন নির্বাচনে অশান্তির যে চেনা ট্র্যাডিশন বা প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল, বিচার ব্যবস্থার এই অনমনীয় মনোভাবের ফলে তাতে এবার চিরতরে লাগাম টানা সম্ভব হতে পারে। একদিকে যখন বিরোধীদের পক্ষ থেকে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে লাগাতার প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল, ঠিক তখনই হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও বরাবরই শান্তির পক্ষে সওয়াল করে আসছেন এবং জানিয়েছেন যে হিংসার রাজনীতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দলমত নির্বিশেষে অপরাধীদের শাস্তির এই আইনি নির্দেশকে সব মহলেই স্বাগত জানানো হচ্ছে।হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে আদালতে কী রিপোর্ট পেশ করে এবং শান্তি ফেরাতে গ্রাউন্ড জিরোতে ঠিক কী কী বড় পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।