প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আপনি কি মোটরবাইক নিয়ে রাস্তায় বেরোচ্ছেন? তাহলে এখনই সাবধান হোন! রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয়ে গিয়েছে এক নজিরবিহীন তৎপরতা। সড়ক দুর্ঘটনা রুখতে এবং আমজনতার জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার ট্রাফিক আইন প্রয়োগে ১০০ শতাংশ কড়াকড়ির পথে হাঁটল নবগঠিত রাজ্য সরকার। নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশিকার ভিত্তিতে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে এক ব্যাপক এবং নজিরবিহীন পুলিশি অভিযান।
পরিবর্তনের সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিয়মের ক্ষেত্রে আর কোনো রকম আপস বা শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। মোটরযান আইনের ধারা মেনে রাজ্যের প্রতিটি কোণায় ট্রাফিক পুলিশকে নামানো হয়েছে সম্পূর্ণ অ্যাকশন মোডে। কী কী পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে? শুধুমাত্র গত তিন দিনেই কলকাতার বুকে ৩,০০০-এর বেশি অসচেতন বাইক আরোহীর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। শিলিগুড়ি ইস্টার্ন বাইপাস থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও চলছে সমান্তরাল অভিযান। শুধু চালকই নন, মোটরবাইকের পিছনে বসা সহযাত্রীর মাথায় হেলমেট না থাকলেও পুলিশ সরাসরি ফাইন ইস্যু করছে। এমনকী, ৪ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেও হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করায় শতাধিক অভিভাবককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
বিনা হেলমেটে ধরা পড়লেই শুধু ₹১,০০০ টাকা আর্থিক জরিমানা নয়, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স (DL) সরাসরি ৩ মাসের জন্য সাসপেন্ড করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।রাস্তায় কোনো পুলিশ কর্মী দাঁড়িয়ে নেই দেখে যদি আপনি ভাবেন পার পেয়ে যাবেন, তবে মস্ত ভুল করছেন। নতুন সরকারের আধুনিকীকরণ নীতির আওতায় রাজ্যের প্রধান সড়ক ও সংযোগস্থলগুলিতে থাকা অত্যাধুনিক সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার মাধ্যমে ডিজিটাল নজরদারি চালানো হচ্ছে। আইন লঙ্ঘন করলেই সোজাসুজি আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে পৌঁছে যাচ্ছে অনলাইন ই-চালান (e-Challan)।
দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে হেলমেটহীন বাইক চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে বহু তাজা প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই সুশাসনের অঙ্গ হিসেবে সাধারণ মানুষের পথসুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নির্দেশ, “আইন সবার জন্য সমান, এবং প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।” আর সেই কারণেই কোনো রকম রাজনৈতিক বা সামাজিক সুপারিশকে তোয়াক্কা না করে ট্রাফিক পুলিশকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, আইনি ঝামেলা এড়িয়ে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আজই ব্যবহার করুন ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS) অনুমোদিত আসল ISI মার্কযুক্ত হেলমেট। মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতাই আপনার আসল সুরক্ষা।