প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-অবশেষে সমস্ত টালবাহানার অবসান। পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে পর পর ৫ বার কেন্দ্রীয় এজেন্সির সমন এড়ানোর পর, আজ ১৫ মে ২০২৬ (শুক্রবার) সকালে সল্টলেকের সিজিও (CGO) কমপ্লেক্সে Enforcement Directorate (ED)-এর আধিকারিকদের মুখোমুখি হলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ। গত সোমবারই এই একই মামলায় প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরার পর গ্রেফতার করা হয়েছে রাজ্যের অপর এক হেভিওয়েট প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে। সুজিত বসু বর্তমানে ১০ দিনের ইডি হেফাজতে রয়েছেন। এই গ্রেফতারির ঠিক ৪ দিনের মাথায় রথীন ঘোষের এই আচমকা হাজিরা ঘিরে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে সর্বোচ্চ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইডি সূত্রের খবর, আজ সকালে তদন্তকারী আধিকারিকদের কোনো পূর্বঘোষণা বা আগাম বার্তা না দিয়েই সম্পূর্ণ আচমকা সকাল সোয়া দশটা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন রথীন ঘোষ। ৫ বার সমন এড়ানোর পর প্রাক্তন মন্ত্রীর এই নাটকীয় উপস্থিতি দেখে সেখানে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ও আধিকারিকদের মধ্যে শোরগোল পড়ে যায়। ইডি দফতরে ঢোকার মুখে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি অবশ্য হালকা মেজাজে দাবি করেন, “আমাকে ডেকেছে, তবে ঠিক কী কারণে ডাকা হয়েছে তা আমি জানি না। ভেতরে গেলেই জানতে পারব”।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার অন্যতম মূল হোতা অয়ন শীলের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া ওএমআর (OMR) শিট ও ডিজিটাল নথিতে মধ্যমগ্রাম ও দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি চাকরির সুপারিশের ক্ষেত্রে রথীন ঘোষের নাম জড়িয়েছে। এর আগে কখনো বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের ব্যস্ততা, আবার কখনো “বাথরুমে পিছলে পড়ে পায়ে চোট পাওয়ার” চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়েছিলেন তিনি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, যেভাবে আইনের জাল ক্রমশ শক্ত হচ্ছিল এবং গত সোমবারই তাঁর সতীর্থ সুজিত বসু গ্রেফতার হয়েছেন, তাতে হাজিরা দেওয়া ছাড়া তাঁর কাছে আর কোনো উপায় ছিল না।
আজকের এই হাজিরার পর সবথেকে বড় যে জল্পনাটি দানা বেঁধেছে, তা হলো মুখোমুখি জেরা। ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, সুজিত বসুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাঁর থেকে বাজেয়াপ্ত করা নথির সূত্র ধরে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। যেহেতু সুজিত বসু এখন সিজিও কমপ্লেক্সেই ইডি হেফাজতে রয়েছেন, তাই দুর্নীতির এই বিশাল চক্রের সূত্র মেলাতে এবং তথ্যের অসঙ্গতি দূর করতে আজই রথীন ঘোষকে ধৃত সুজিত বসুর মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে পারেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
৫ বার কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে এড়িয়ে চলা এই নেতার আজকের এই হাজিরা কি কেবলই সাধারণ জেরা, নাকি সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর কোনো বড় বিপদের আশঙ্কায় এই আত্মসমর্পণ? সিজিও কমপ্লেক্সের ভেতরে চলা এই রুদ্ধদ্বার জিজ্ঞাসাবাদের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।