প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতা পরিবর্তনের পরেই বাংলায় সুশাসনের লক্ষ্যে এবং সংরক্ষিত আসনের অপব্যবহার রুখতে এক নজিরবিহীন ও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার। পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে দেওয়া সমস্ত কাস্ট বা জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) পুনরায় যাচাইয়ের (Re-verification) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যে ইস্যু করা সমস্ত তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC)-র শংসাপত্রের সত্যতা ও বৈধতা নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখার জন্য সব জেলার জেলাশাসকদের (DM) কড়া নির্দেশ দিল অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বেআইনি বা ভুল তথ্য দিয়ে শংসাপত্র নেওয়ার প্রমাণ মিললে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও সার্টিফিকেট বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছে নতুন সরকার। নবান্নের এই কড়া নির্দেশের পর থেকেই ভুয়ো সার্টিফিকেটধারীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত সরকারের আমলে ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৬৯ লক্ষ কাস্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছিল। এর মধ্যে তফশিলি জাতি (SC) হিসেবে প্রায় ১ কোটি, তফশিলি উপজাতি (ST) হিসেবে ২১ লক্ষ এবং ওবিসি (OBC) হিসেবে ৪৮ লক্ষ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। বিজেপি বিরোধী আসনে থাকার সময় থেকেই দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে এবং নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ ভুয়ো শংসাপত্র বিলি করা হয়েছে, যার ফলে বাংলার ভূমিপুত্র ও প্রকৃত সংরক্ষিত শ্রেণির মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এবার ক্ষমতায় এসেই এই বিপুল পরিমাণ শংসাপত্রের স্ক্রুটিনির সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন সরকার সেই খামতি দূর করতে বদ্ধপরিকর বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সক্রিয়তার পিছনে রয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের একাধিক কড়া পর্যবেক্ষণ। এর আগে ওবিসি (OBC) সার্টিফিকেট বাতিলের মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে তীব্র আইনি লড়াই চলেছিল। দেশের সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আইনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং আদালতের নির্দেশিকাকে মান্যতা দিতেই এই আগাম সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ (Preemptive Measure) গ্রহণ করেছে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

বিজেপি নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, রাজ্যের সীমান্ত অঞ্চলগুলিতে অনুপ্রবেশকারীদের একাংশকে বেআইনিভাবে তফশিলি বা ওবিসি সার্টিফিকেট পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বাংলার ভূমিপুত্র এবং আদি তফশিলি সম্প্রদায়ের চাকরি ও শিক্ষার সুযোগ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। নবান্নের এই নতুন নির্দেশিকাকে স্বাগত জানিয়ে সাধারণ মানুষ এবং দলের কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন সরকারের প্রথম বড় জয় এবং এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে অতীতে শংসাপত্র বন্টনে বিস্তর অনিয়ম ছিল, যা এবার দূর হতে চলেছে।

অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, জেলা স্তরে বিশেষ স্ক্রুটিনি কমিটি গঠন করে প্রতিটি সার্টিফিকেটের নথিপত্র এবং পারিবারিক বংশলতিকা (Blood Relation) পুনরায় নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। যদি দেখা যায় কেউ জালিয়াতি করে, ভুয়ো নথি জমা দিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে এই সার্টিফিকেট হাসিল করেছেন, তবে তৎক্ষণাৎ তাঁর শংসাপত্র বাতিল করা হবে। শুধু তাই নয়, সরকারি চাকরি বা শিক্ষাক্ষেত্রে সেই সার্টিফিকেটের সুবিধা নিয়ে থাকলে, তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হতে পারে। নতুন সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে রাজ্যে সংরক্ষিত শ্রেণির প্রকৃত উপভোক্তাদের অধিকার পুরোপুরি সুনিশ্চিত হবে।