প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই কি খড়কুটোর মতো ভেঙে পড়তে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস? গত দেড় দশক ধরে যে দল ক্ষমতার দম্ভে এবং রাজ্য প্রশাসনের ওপর ভর করে টিকে ছিল, ক্ষমতার অলিন্দ থেকে বিচ্যুত হতেই তার ভেতরের তীব্র ফাটল এবার প্রকাশ্যে চলে এলো। শুক্রবার কালীঘাটের পর্যালোচনামূলক বৈঠকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকুল কণ্ঠ এবং তীব্র হুঁশিয়ারি—দুইয়ে মিলেই এখন রাজনৈতিক মহলে উঠছে এক বড় প্রশ্ন: তবে কি তৃণমূলের অন্দরে এখন শুধুই পলায়নপন্থীদের ভিড়?

তৃণমূল নেত্রী এদিন ক্ষোভের সুরে বলেছেন, “যাঁরা রং বদলাচ্ছেন চলে যান।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি বাক্যই প্রমাণ করে যে দলের আদর্শ বলতে কিছু ছিল না; পুরোটাই ছিল ক্ষমতার মধু খাওয়ার আসর। গত কয়েক বছর ধরে নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি থেকে শুরু করে বালি-পাথর পাচারের যে পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে উঠেছিল, ক্ষমতার হাতবদল হতেই সেই পাপের ঘড়া যেন উল্টে গেছে। এতদিন যে নেতারা ‘দাপুটে’ পরিচয় দিতেন, আজ ক্ষমতা হারাতেই তাঁরা দলবদলু ও সুবিধাবাদীতে পরিণত হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, যাঁরা দলে থাকবেন তাঁরা নাকি ‘নিরেট সোনা’। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, গত ১০-১২ বছরে যে দল সোনা চেনার পরিমাপটাই ভুলে গিয়ে সিন্ডিকেট রাজ আর তোলাবাজিকে প্রশ্রয় দিল, তারা আজ কোন মুখে সততার সার্টিফিকেট দিচ্ছে?

নেত্রী নিজেই বলেছেন, “নতুন করে দলকে তৈরি করব।” এই কথাটিই সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে, গত বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্তিত্ব বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তৃণমূলের এই ‘নতুন করে দল তৈরি’র চেষ্টা আসলে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে শেষবার বাঁচার মরিয়া চেষ্টা মাত্র। বৈঠকে আবেগঘন বার্তা দিয়ে নেত্রী বলেছেন, “আমি নিজে পার্টি অফিস রং করব।” বিরোধীদের মতে, এটি আসলে কর্মীদের সহানুভূতি পাওয়ার এক পরিকল্পিত রাজনৈতিক স্টান্ট। এতদিন যে পার্টি অফিসগুলো থেকে বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার এবং ভোট লুঠের নীল নকশা তৈরি হতো, আজ সেখানে নাকি নেত্রী নিজে রং করবেন! সাধারণ মানুষ কিন্তু এই বিভ্রান্তিকর আবেগে আর ভুলছেন না। সাত দিনের মধ্যে এলাকাভিত্তিক রিপোর্ট তলব এবং ব্লক স্তরে মিছিলের নির্দেশ আসলে হারের পর দিশেহারা ও হতাশ কর্মীদের জোর করে মাঠে নামানোর একটা ব্যর্থ চেষ্টা।

রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট ধারণা, আদর্শহীন এবং জনবিচ্ছিন্ন একটি দল ক্ষমতার বাইরে গিয়ে বেশিদিন টিকতে পারে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এদিনের প্রতিটি ক্ষোভ, হতাশা এবং দলত্যাগীদের প্রতি ‘আটকাব না’ বলে হাত তুলে দেওয়া—আসলে তৃণমূলের চূড়ান্ত পরাজয় এবং অবলুপ্তির কাউন্টডাউন শুরুর স্পষ্ট ইঙ্গিত।