প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ব্যর্থ হওয়ার পর, নিজেদের পায়ের তলার হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক জমি ফিরে পেতে এবং দলের চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভাঙন ঢাকতে আবারও পুরোনো ‘রাস্তা জ্যাম’ করার রাজনীতিতে ফিরছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর থেকে রাজ্যে হওয়া হিংসার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপাতে আগামী ২ জুন, মঙ্গলবার কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে এক দিনের তথাকথিত ‘অবস্থান বিক্ষোভ’-এর ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহল এবং সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, এই নাটক আসলে আইনি ও রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার চরম বহিঃপ্রকাশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ব্যালট বক্সে সাধারণ মানুষের মোক্ষম চড় খাওয়ার পর তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা চূড়ান্ত হতাশায় ভুগছেন। বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ দুর্নীতি আর স্বৈরাচারকে প্রত্যাখ্যান করে তৃণমূলকে ক্ষমতার অলিন্দ থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। এখন দল ছাড়ার হিড়িক রুখতে এবং কর্মীদের জোর করে চাঙ্গা রাখতেই এই কর্মসূচির অবতারণা। নিজেদের অপশাসনের কারণে হওয়া চরম ভরাডুবিকে আড়াল করতে এখন ‘ভোট কারচুপি’ এবং ‘ভোট-পরবর্তী হিংসা’-র কাল্পনিক অভিযোগ তুলে সহানুভূতি কুড়ানোর সস্তা চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবারের এই কর্মসূচির জেরে সপ্তাহের দ্বিতীয় কাজের দিনে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে তীব্র যানজট এবং সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের প্রশ্ন, “ক্ষমতা হারিয়েও কেন নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বারবার কলকাতার রাজপথকে জিম্মি করা হবে? সাধারণ মানুষ কেন এই পরাজয়ের ক্ষোভের বলি হবেন?” ইতিপূর্বেও রবীন্দ্রজয়ন্তীর মত পবিত্র দিনেও তারা কর্মসূচি করার চেষ্টা করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল, এবারও পুলিশি অনুমতির তোয়াক্কা না করেই আদালতের ওপর চাপ তৈরির কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিজেপি শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে যে “অদৃশ্য রিগিং”-এর ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন, তা দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে আইনি জটিলতা এড়াতে এবার অত্যন্ত সুচতুরভাবে দলের নীচুতলার কর্মীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একদিকে ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নানুরে পাঠিয়ে গ্রামীণ স্তরে উত্তেজনা জিইয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে, অন্যদিকে কলকাতায় নাটক সাজাচ্ছেন পিসি।বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, বাংলার বুদ্ধিমান জনগণ এই দ্বিচারিতা ধরে ফেলেছেন। ক্ষমতা হারিয়ে রাজপথে বসে সহানুভূতি খোঁজার এই শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হবে, কারণ মানুষ এখন দুর্নীতিমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ নতুন প্রগতির পক্ষে রায় দিয়েছেন।