প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে প্রশাসন এখন ভারতীয় জনতা পার্টির হাতে এলেও, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তদন্ত এড়ানোর পুরনো রাজনৈতিক কৌশল ও দাপট নিয়ে এবার তীব্র প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল। বিগত বিধানসভা অধিবেশনে বিধায়কদের সই-জালিয়াতির মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলার তদন্তে আজ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের বর্তমান সাংসদ (MP) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করেছিল সিআইডি। তবে সিআইডি সূত্রের খবর, শেষ মুহূর্তে সশরীরে হাজিরা না দিয়ে আইনজীবী মারফত চিঠি পাঠিয়ে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যের ক্ষমতা চলে গেলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও দিল্লির সংসদের একজন প্রভাবশালী সদস্য। আর সেই প্রভাব এবং আইনজীবীদের আইনি চিঠির আড়ালে আজ ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়া স্থগিত রাখলেন তিনি।
গত ৩০ মে সোনারপুরে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর শারীরিক আঘাত পাওয়ার ঘটনাকে সামনে রেখে চিকিৎসকদের বিশ্রামের পরামর্শকে ঢাল করা হয়েছে তাঁর আইনজীবীর চিঠিতে। তবে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, বাংলার বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট নীতি অনুযায়ী—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন, সে তিনি রাজ্যের বর্তমান সাংসদই হোন বা কোনও প্রভাবশালী দলের নেতা।
আইনজ্ঞদের মতে, দেশের একজন নাগরিক এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে যে কোনও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা তাঁর আইনি ও নৈতিক কর্তব্য। বিধানসভার মতো পবিত্র স্তম্ভের ভেতরে ভুয়ো সই করার এই নজিরবিহীন কেলেঙ্কারিতে সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) যখন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে সত্য উদঘাটনে মরিয়া, তখন বর্তমান সাংসদের এই হাজিরা এড়ানোর পদক্ষেপকে বিরোধীরা ‘তদন্তকে বিলম্বিত করার মরিয়া চেষ্টা’ হিসেবেই দেখছেন। ক্ষমতা হারিয়ে দিশেহারা তৃণমূল এখন তাদের এই শীর্ষনেতার অসুস্থতার তত্ত্বকে কতদিন আইনি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, সেটাই এখন দেখার। কারণ ভবানী ভবনের গোয়েন্দারা এই জালিয়াতি মামলার শিকড়ে পৌঁছাতে পরবর্তী কড়া আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেই সূত্রের খবর।