প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিগত দেড় দশক ধরে বাংলার বুকে চলা একরোখা জেদ আর ইগোর রাজনীতির অবসান ঘটতে চলেছে। আগামী ১১ জুন নতুন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে বসছে নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের মেগা বৈঠক। আর সেই বৈঠকে বাংলার সাড়ে দশ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার ও বকেয়া পাওনা ছিনিয়ে আনতে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রের এই শীর্ষ নীতি-নির্ধারক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে এক বিরাট ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে চলেছে।
বিগত তৃণমূল জমানায় যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন নীতি আয়োগের বৈঠক এলেই দেখা যেত সংঘাতের চেনা ছবি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বারবার নীতি আয়োগের বৈঠক বয়কট করে দিল্লির সঙ্গে এক বৈরি সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। দিল্লির সঙ্গে নিরন্তর সংঘাতের জেরে কেন্দ্রের হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনুদান আর গ্র্যান্ট আটকে থেকেছে, যার সরাসরি মাসুল গুনতে হয়েছে সাধারণ রাজ্যবাসীকে। আয়ুষ্মান ভারতের মত জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প কিংবা গরিবের একশো দিনের কাজের টাকা—স্রেফ প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে বাংলার প্রান্তিক মানুষ দিনের পর দিন বঞ্চিত হয়েছেন। সহযোগিতার বদলে সংঘাতের পথ বেছে নিয়ে রাজ্যকে কার্যত এক অন্ধকার ঋণের গহ্বরে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সময় বদলেছে। বাংলায় এখন আর তৃণমূলের সেই একনায়কতান্ত্রিক জমানা নেই। মানুষ বেছে নিয়েছেন প্রকৃত উন্নয়নকে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন—কেন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো মেনে বাংলার প্রাপ্য আদায় করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। দিল্লিতে যাওয়ার আগেই নবান্নে কাজের গতি বাড়িয়ে দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের সমস্ত দপ্তরের সচিবদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ৫ জুনের মধ্যে প্রতিটি দপ্তরের বর্তমান স্থিতি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত ড্রাফট প্রপোজাল জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, পুরোপুরি হোমওয়ার্ক গুছিয়ে তবেই দিল্লির দরবারে পা রাখছেন তিনি।
আগামী ২২ জুন রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে। তার ঠিক আগে ১১ জুনের এই নীতি আয়োগের মঞ্চ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠক থেকেই কেন্দ্রীয় গ্র্যান্টের অঙ্কটা চূড়ান্ত করে তা সরাসরি বাজেটে যুক্ত করতে চান শুভেন্দু অধিকারী। এখানে একটি মস্ত বড় প্লাস পয়েন্ট রয়েছে নতুন সরকারের। বর্তমান নীতি আয়োগের সহ-উপাচার্য হলেন বাংলার কৃতি সন্তান, প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সমীকরণ অত্যন্ত চমৎকার ও আন্তরিক। এই বিশেষ যোগসূত্রকে কাজে লাগিয়ে এবার দিল্লির দরবার থেকে বাংলার জন্য বড়সড় আর্থিক প্যাকেজ ও শিল্প বিনিয়োগের রাস্তা তৈরি করা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
পশ্চিমবঙ্গে অহংকার ঝেড়ে ফেলে এবার উন্নয়নের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। রাজ্যবাসী যে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন, প্রথম দিন থেকেই তার মর্যাদা রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখন দেখার, আগামী ১১ জুন দিল্লির মেগা বৈঠক থেকে বাংলার জন্য ঠিক কী কী বড় উপহার নিয়ে ফেরেন তিনি।