প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিগত জমানার পনেরো বছরের শাসনকাল খতম করে বাংলায় এবার নতুন প্রশাসনিক অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে আমূল বদলে দিতে বদ্ধপরিকর। গত ১ জুন লোকভবনে রাজ্যপাল আর এন রবির উপস্থিতিতে যে ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন, আজই তাঁদের সুনির্দিষ্ট দপ্তর বণ্টন সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি নবান্ন থেকে জারি হতে পারে বলে বিশেষ রাজনৈতিক সূত্রে খবর। গত ৩ জুনের ক্যাবিনেট বৈঠকে এই দপ্তর বণ্টনের জল্পনা থাকলেও, দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সঙ্গে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও সমীকরণ মেলানোর পর আজই সেই কাঙ্ক্ষিত তালিকা প্রকাশ পেতে চলেছে।

গেরুয়া শিবিরের স্পষ্ট দাবি, পূর্বতন জমানার ‘সিন্ডিকেট রাজ’, অচল পরিকাঠামো এবং নিয়োগ দুর্নীতির জঞ্জাল সাফ করতেই এই নতুন মন্ত্রিসভাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শঙ্কর ঘোষ, অর্জুন সিং বা তাপস রায়ের মতো পোড়খাওয়া, লড়াকু এবং অভিজ্ঞ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বে বসিয়ে নবান্নের অলিন্দে লালফিতের ফাঁস এবং প্রশাসনিক স্তরের যাবতীয় অনিয়ম একলপ্তে দূর করাই নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য। এখানে তৃণমূল জমানার মতো কোনও ফাইল আটকে থাকবে না, বরং কাজের গতি হবে রকেটের মতো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম থেকেই অত্যন্ত সতর্ক। অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্যের মতো স্পর্শকাতর এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলি তিনি আপাতত নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন যাতে রাজ্যে স্বচ্ছ উপায়ে প্রকৃত বিনিয়োগ টানা যায়। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের খবর, এবার যে নতুন তালিকা তৈরি হয়েছে, তা একাধারে আদিবাসী, তফশিলি এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করবে, আবার অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সুষম উন্নয়ন সুনিশ্চিত করবে।

মে মাসের শুরুতে গঠিত প্রাথমিক মন্ত্রিসভার ৫ জন শীর্ষ মন্ত্রীর দপ্তর আগেই বণ্টন করা হয়েছিল। যেখানে দিলীপ ঘোষকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, অগ্নিমিত্রা পলকে পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নিশীথ প্রামাণিককে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আজ বাকি ৩৫ জনের নাম ঘোষণা হলে মুখ্যমন্ত্রী সহ মোট ৪১ জনের এই দুর্ধর্ষ টিম পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।

বিজেপি শিবিরের বার্তা, এই মন্ত্রিসভা পকেট ভরার জন্য বা গদি বাঁচানোর জন্য নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মন্ত্রে দীক্ষিত এক জনমুখী লড়াকু বাহিনী। আজ দপ্তর বণ্টন সম্পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই প্রতিটি মন্ত্রক স্বচ্ছতার সাথে কাজ শুরু করবে এবং পূর্বতন জমানার সমস্ত অনিয়মের খতিয়ান খতিয়ে দেখে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বাংলার মানুষ হাত তুলে আশীর্বাদ করেছিলেন প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য। আজ এই দপ্তর বণ্টনের মাধ্যমে সেই পরিবর্তনের সুফল বাংলার প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে কোমর বেঁধে নামছে শুভেন্দুর ‘টিম বেঙ্গল’। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কোন দেশপ্রেমিক নেতার কাঁধে কোন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের চাবিকাঠি তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সবচেয়ে আগে প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের পোর্টালে।