প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতি অনেক হয়েছে, এবার হোক আসল কাজ। আজ শনিবার সকাল ১১ টায় নবান্ন সভাগৃহে এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে বসছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পিসি জমানায় যে বাংলা শুধু ‘জমি দেব না’ আর ‘কেন্দ্রের টাকা আটকে রাখল’ বলে তরজা শুনেছে, আজ সেখানে এক নতুন ভোরের সূচনা হতে চলেছে। প্রায় ১৪,২০০ কোটি টাকার থমকে থাকা রেল ও মেট্রো প্রকল্পের ভাগ্য নির্ধারণে এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

উন্নয়ন নিয়ে তরজা এরাজ্যে নতুন নয়। এর আগে যখনই কেন্দ্রীয় রেলের তরফ থেকে বাংলার জন্য রেকর্ড বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে, তখনই রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল জমানার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। পরিসংখ্যান বলছে, শুধুমাত্র জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের চরম অভাবের কারণে রাজ্যের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প বছরের পর বছর ফাইল বন্দি হয়ে পড়েছিল। রাজনৈতিক ইগোর লড়াইয়ের বলি হতে হয়েছিল সাধারণ নিত্যযাত্রীদের। আর এখানেই প্রশ্ন, টাকা দিল কেন্দ্র, নকশা তৈরি করল রেল, কিন্তু পূর্বতন রাজ্য প্রশাসন সঠিক সময়ে জমি হস্তান্তর করতে পারল না কেন? কার উদাসীনতায় আটকে রাখা হয়েছিল শিয়ালদহ বা জোকা-বিবাদী বাগ মেট্রোর কাজ? যে প্রকল্পের সুবিধা পেত বাংলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, সেই প্রকল্পগুলোকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিরোধিতার খাতিরে কেন এতদিন ঝুলিয়ে রাখা হলো? আজ যখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমন্ত্রণে রেলমন্ত্রী স্বয়ং নবান্নে এসে জট ছাড়াতে বসছেন, তখন প্রমাণ হয় না কি— আসল সদিচ্ছাটা কার ছিল?

কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হতে চলা এই মেগা বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন পূর্ব রেল, দক্ষিণ-পূর্ব রেল এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার সহ মেট্রো রেলের শীর্ষ কর্তারা। বৈঠকে যে মূল বিষয়গুলি নিয়ে টেবিলে আলোচনা হতে চলেছে, রেলের থমকে থাকা প্রকল্পগুলির জন্য প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত চিহ্নিত করে তা রেলের হাতে তুলে দেওয়ার রোডম্যাপ তৈরি। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর বউবাজার সংলগ্ন জটিলতা এবং জোকা-এসপ্ল্যানেড লাইনের সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা। কেন্দ্র ও রাজ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে এবার বাংলা পেতে চলেছে বিশ্বমানের রেল পরিকাঠামো। শিয়ালদহ, হাওড়ার মতো স্টেশনগুলির আধুনিকীকরণ আরও ত্বরান্বিত করা।

আজকের এই বৈঠক প্রমাণ করতে চলেছে যে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে দীর্ঘদিনের জটও নিমেষে কেটে যায়। বাংলার মানুষ এতদিন যে ‘উন্নয়নের খরা’ প্রত্যক্ষ করেছে, বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক তৎপরতায় আজ তার অবসান ঘটার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এবার নজর নবান্নের দিকে, বৈঠক শেষে কী বড় ঘোষণা আসে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।