প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বলুন তো দেখি ভাই, একটা দল কতটা জনবিরোধী হলে নিজেদের খামখেয়ালি আর অহংকারের চোটে একটা গোটা শহরের মেট্রো প্রকল্পকে বছরের পর বছর স্তব্ধ করে রেখে দিতে পারে? সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা জলে যাচ্ছিল, ট্রাফিকের নরকযন্ত্রণা ভোগ করছিল আমজনতা, আর ওদিকে আগের সরকারের নবান্ন থেকে আসত শুধু ‘না’ আর ‘না’! হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। আজ শনিবার বিকেলে কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের চিংড়িঘাটা পয়েন্টের সেই থমকে থাকা কাজ খতিয়ে দেখতে এসে ঠিক এই ভাষাতেই সাবেক তৃণমূল জমানাকে তুলোধোনা করলেন দেশের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। একদম যেন হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন তিনি!
রেলমন্ত্রী আজ স্পষ্ট ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিযোগ করেছেন, “চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজের জন্য আগের জমানায় দিনের পর দিন ট্রাফিক অনুমতির ফাইল আটকে রাখা হয়েছিল।” রাজনৈতিক মহলের কটাক্ষ, কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিল— কাজ করতে দাও, সুপ্রিম কোর্ট সিলমোহর দিল— কাজ করতে দাও। কিন্তু অহংকারে অন্ধ তৎকালীন তৃণমূল সরকারের তাতেও নাকি কোনো হেলদোল ছিল না! আদালতের রায়কে এড়িয়ে যেতেও তারা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পিছপা হয়নি বলে অভিযোগ। রেলমন্ত্রী সোজা ব্যাঁকা না করে বলেই দিলেন, এটাই হলো আগের তৃণমূল সরকারের উন্নয়ন বিরোধী মানসিকতার সবচেয়ে বড় এবং ‘জ্বলন্ত উদাহরণ’।অশ্বিনী বৈষ্ণব আজ শুধু চিংড়িঘাটা নয়, গোটা বাংলার বুকে বিগত তৃণমূল জমানার যে অধ্যায়, তার পর্দাফাঁস করেছেন। তাঁর সাফ দাবি, রেল মন্ত্রক থেকে একের পর এক চিঠি পাঠানো হলেও তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে কোনো জবাব আসেনি। জমি জট আর আগের রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত অসহযোগিতার কারণে বাংলায় প্রায় ১ লক্ষ ২ হাজার কোটি টাকার রেল প্রকল্প স্রেফ ফাইলের তলায় ধুলো খাচ্ছিল বলে অভিযোগ তাঁর! সাধারণ মানুষের উন্নয়নকে জিম্মি করে রাখার এই নীতির বিরুদ্ধে স্বভাবতই সুর চড়িয়েছে বিজেপি শিবির।
তবে দিন তো আর এক থাকে না। বাংলায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই ম্যাজিকের মতো কাজ শুরু হয়েছে। যে চিংড়িঘাটার ৬২ মিটারের ভায়াডাক্ট গ্যাপ নিয়ে আগের সরকার গত ১৪-১৫ মাস ধরে ‘টেকনিক্যাল’ অজুহাত দিচ্ছিল বলে অভিযোগ, জট কাটতেই মাত্র ১২০ ঘণ্টার মধ্যে, স্রেফ দুটো উইকএন্ডের রাতের ব্লকে সেই গির্ডার লঞ্চিংয়ের কাজ সফলভাবে শেষ করে দেখিয়েছে আরভিএনএল (RVNL)। তাও আবার নির্ধারিত সময়ের ৩ ঘণ্টা আগে! গেরুয়া শিবিরের দাবি, একেই বলে আসল কাজ, আর একেই বলে মোদী সরকারের গতি! যাঁরা কেবল ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বঞ্চনা’র তত্ত্ব খাড়া করতেন, তাঁদের দাবিতে জল ঢেলে রেলমন্ত্রী আজ আরও এক বিরাট ঘোষণা করেছেন। আগামী ৫ বছরে কলকাতার লাইফলাইনকে আরও চাঙ্গা করতে ৬০টি নতুন প্রজন্মের মেট্রো রেক আনা হচ্ছে। যেখানে ২০১৪ সালের পর মোদী সরকারের আমলে কলকাতায় ৪৮ কিলোমিটার মেট্রো সম্প্রসারণ হয়েছে, সেখানে ১৯৭২ থেকে ২০১৪— এই দীর্ঘ ৪২ বছরে হয়েছিল মাত্র ২৮ কিলোমিটার! রেলের এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তৃণমূলের দিকেই পুরোনো হিসাবের খতিয়ান চাইল বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহল।
জনগণ কিন্তু সব দেখছিল। মেট্রো ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে সাধারণ আমজনতা— বছরের পর বছর ধরে এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি সহ্য করেছে। তাই ব্যালট বাক্সে মানুষ যখন উন্নয়নকে বেছে নিয়েছে, তখনই বাধার দেয়াল ভেঙে এবার বাংলার মেট্রো প্রকল্প রেকর্ড গতি পাচ্ছে। চিংড়িঘাটার এই গতি কেবল মেট্রোর চাকার গতি নয়, এটা আসলে বাংলার থমকে থাকা উন্নয়নের চাকা ঘোরানোর গতি! কী বলবেন এর পরেও? জবাব কিন্তু তৈরি রাখবেন।