প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার খোদ দেশের রাজধানীতে বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। এবার সরাসরি দলের অভ্যন্তরে ‘ব্যাপক দুর্নীতি’ এবং ‘সততার অভাব’-এর বিস্ফোরক দাবি তুলে পদত্যাগ করলেন তৃণমূলের অত্যন্ত প্রবীণ নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। আজ সোমবার (৮ জুন, ২০২৬) দিল্লির উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের দপ্তরে গিয়ে নিজের ইস্তফাপত্র সশরীরে জমা দেন তিনি। একই সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। দিল্লিতে আজ যখন বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের হাইভোল্টেজ বৈঠক চলছে, ঠিক তার আগেই সুখেন্দু বাবুর এই পদত্যাগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য একটি বড়সড় সংসদীয় ধাক্কা হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
আজ রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে নিজের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুখেন্দু শেখর রায়। পদত্যাগের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে তিনি স্পষ্ট জানান, দীর্ঘদিন ধরে দলে ‘সততার চরম অভাব’ এবং শীর্ষস্তরে দুর্নীতির কারণে তিনি ভালো ছিলেন না। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের বিপুল বিপর্যয়ের পর থেকেই দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমছিল, যার প্রথম বড় সংসদীয় বহিঃপ্রকাশ ঘটল আজ। তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার পর এই বর্ষীয়ান নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি এবার সক্রিয় রাজনীতি থেকেই সম্পূর্ণ অবসর নিতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সুখেন্দু শেখর রায়ের মতো একজন মার্জিত এবং প্রবীণ নেতার এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে দিচ্ছে যে তৃণমূলের অভ্যন্তরে ক্ষোভ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই দলটির অন্দরে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল, তা এবার দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতেও স্পষ্ট হয়ে গেল। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের জল্পনা, সুখেন্দু বাবুর এই পদক্ষেপের পর দিল্লির অলিন্দে থাকা তৃণমূলের আরও কয়েকজন সাংসদ এবং বাংলার বহু হেভিওয়েট নেতার অবস্থান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের ঘিরেও দলত্যাগের জল্পনা তীব্র হয়েছে। তবে এই পদত্যাগ নিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনো অফিশিয়াল প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।