প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের রাজ্য রাজনীতিতে কি এবার সবচেয়ে বড় সুনামি আসতে চলেছে? দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দ থেকে ভেসে আসা এক জল্পনায় এখন তোলপাড় গোটা দেশ। একদিকে যখন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী জোটের মেগা বৈঠকে যোগ দিতে খোদ রাজধানীতে রয়েছেন, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে ঘটে গেল এক অভূতপূর্ব নাটকীয় ঘটনা। অসমর্থিত সূত্রের অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর দাবি, দিল্লির বুকে বিজেপি নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক অত্যন্ত গোপন ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের একঝাঁক বিক্ষুব্ধ সাংসদ! রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশের দাবি, এই বৈঠকে তৃণমূলের ১২ থেকে ২০ জন লোকসভা ও রাজ্যসভা সাংসদ উপস্থিত থাকতে পারেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দিল্লির পাশাপাশি কলকাতার রাজনৈতিক তাপমাত্রা পারদ ছুঁয়েছে।

দিল্লির একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী সূত্রের দাবি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবন অথবা একটি বিশেষ সরকারি দফতরে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি সম্পন্ন হয়। রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা, বৈঠকে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট সাংসদকে দেখা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, এই বিক্ষুব্ধ তালিকায় লোকসভা ও রাজ্যসভার বেশ কয়েকজন চেনা মুখ রয়েছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের ওপর ক্ষুব্ধ।একই সঙ্গে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে যে, প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ এবং দলের একাংশের ইস্তফার সিদ্ধান্তও এই সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তবে এই বিষয়ে এখনও কোনো নেতার তরফেই স্পষ্ট আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেওয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) এড়াতে অত্যন্ত নিখুঁত আইনি ছক কষছেন বিক্ষুব্ধরা। রাজনৈতিক অলিন্দের গুঞ্জন, বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা স্পিকার ওম বিড়লার কাছে নিজেদের একটি আলাদা গোষ্ঠী বা ‘ব্লক’ হিসেবে ঘোষণা করার আবেদন জানাতে পারেন। আইনি জটিলতা তৈরি হলে সরাসরি সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দেওয়ার পথও খোলা রাখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ অংশটি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে মূলত দুটি শর্ত নিয়ে আলোচনা করছে—আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে টিকিটের নিশ্চয়তা এবং পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা। জল্পনা রয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যস্থতায় এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক সফল হলে, আজ বিকেলের মধ্যেই এই বিক্ষুব্ধ প্রতিনিধিদলটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠকে বসতে পারেন।