প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডের তদন্তে আজ এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় দেখল কলকাতা। মঙ্গলবার বিকেলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে তল্লাশি চালাতে যায় সিআইডি (CID)-র ১৭ জনের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানো মাত্রই খোদ গেটের মুখেই আটকে দেওয়া হয় সিআইডি আধিকারিকদের! আইনত তল্লাশি রুখতে সিআইডি অফিসারদের পথ আটকে দাঁড়িয়ে চরম বাদানুবাদে জড়ান তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী।

তদন্তকারীরা যখন আদালতের নির্দেশ মেনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির প্রাঙ্গণে ঢুকতে যান, ঠিক তখনই গেটের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তৃণমূল নেতৃত্ব। নিজেকে কার্যালয়ের সাধারণ ‘ভলান্টিয়ার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে শুভাশিস চক্রবর্তী সিআইডি অফিসারদের সাফ জানান, “মালিকরা (মমতা ও অভিষেক) বাড়িতে নেই, তাই ভেতরে কাউকে ঢুকতে দিতে পারি না”। তিনি সিআইডি-কে দু’দিন পরে আসার অনুরোধ জানান। সিআইডি আধিকারিকরা অবশ্য এই দাবিতে দমে যাননি। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এটি সরাসরি “আইনি তদন্তের কাজে বাধা দেওয়া”। তদন্তকারীরা কড়া সুরে প্রাক্তন সাংসদকে মনে করিয়ে দেন যে, আদালতের সার্চ ওয়ারেন্ট থাকায় তল্লাশি চালানোর জন্য তাঁর কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। এই নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে।

গত ২০ মে বিধানসভার স্পিকারের কাছে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দিয়ে পাঠানো একটি চিঠিতে তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার সই জাল করার অভিযোগ ওঠে। থানায় এফআইআর দায়েরের পর এই মামলার তদন্তভার নেয় সিআইডি। এই মামলার মূল যোগসূত্র খুঁজতে আজই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করেছিল সিআইডি। কিন্তু তিনি দিল্লিতে থাকার কারণে হাজিরা এড়ান। এর পরেই আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে সোজা কালীঘাটের ডেরায় হানা দেয় সিআইডি।

তৃণমূল নেতাদের এই চরম বাধার জেরে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তীব্র উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবণতি ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইনি তল্লাশি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অবিলম্বে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া অবস্থান ও সিআইডির নাছোড়বান্দা মনোভাবের কাছে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় তৃণমূলের বাধা। সমস্ত প্রতিরোধ ভেঙে অবশেষে সিআইডি অফিসাররা মমতা বন্দ্যোপাধ্যা্যের কালীঘাটের প্রাঙ্গণে ও দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করেছেন। অন্যদিকে, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসেও সিআইডির আরেকটি দল হানা দিয়েছে বলে সূত্রের খবর।