প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনৈতিক অস্তিত্ব পুনরুত্থানের তাগিদে কি তবে শেষমেশ ১০ জনপথের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে? সনিয়া-রাহুলের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পর যখন জাতীয় স্তরে জল্পনা—একদা কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হওয়া তৃণমূল কি এবার নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় ফের কংগ্রেসে মিশে যেতে পারে? ঠিক তখনই প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরমহল থেকে যে বয়ান ভেসে এলো, তা এককথায় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ! প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার যে ভাষায় এই ‘ঘরওয়াপসি’র জল্পনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, তা দেখে ওয়াকিবহাল মহলে একটাই প্রশ্ন—জাতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী প্রধান মুখ হয়ে ওঠার যে দাবি তৃণমূল এতদিন করে আসছিল, তা কি এবার দিল্লির দরবারে ধাক্কা খেল?

জাতীয় রাজনীতিতে এতদিন যাঁরা নিজেদের সমকক্ষ বা বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করতেন, আজ তাঁদেরই পুরনো দলে ফেরার জল্পনায় একের পর এক কঠিন শর্ত সামনে এনেছেন খোদ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি! শুভঙ্কর বাবু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কংগ্রেসে আসতে গেলে এক এবং প্রধান শর্ত হলো—রাহুল গান্ধীকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখ এবং নেতা হিসেবে নিঃশর্তে মেনে নিতে হবে! রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, যে নেতৃত্ব কোনোদিন কারও শর্ত বরদাস্ত করতে অভ্যস্ত নয়, জাতীয় স্তরে প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে তাঁরা কি এখন রাহুলের এই নেতৃত্ব মেনে নেবেন? একেই বলে রাজনীতির উলটপুরাণ!এখানেই শেষ নয়। শুভঙ্কর সরকার আরও একটা অত্যন্ত কড়া কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো ‘ধক’ বা মানসিকতা দেখাতে হবে। কারণ তাঁর দাবি, দেশে এই মুহূর্তে বিজেপির বিরুদ্ধে একমাত্র কংগ্রেসই আসল লড়াই লড়ছে। কংগ্রেস সভাপতির এই মন্তব্য কি পরোক্ষে তৃণমূলের জাতীয় স্তরের লড়াইয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিল না?

শুভঙ্কর বাবু মনে করিয়ে দিয়েছেন ইতিহাসের সেই অমোঘ সত্য—কংগ্রেস ভেঙেই একদিন তৃণমূলের জন্ম হয়েছিল। অতীতে বহুবার কংগ্রেসকে ভাঙার রাজনীতি ফেস করতে হয়েছে। আজ যখন জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বদলেছে, তখন আবার সেই ‘হাত’ চিহ্নেই ফেরার জল্পনা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ইতিহাস যে কাউকেই সহজে ক্ষমা করে না, তা আজ কংগ্রেস সভাপতি নিজের মন্তব্যের মাধ্যমে পরোক্ষে স্পষ্ট করে দিলেন।

জাতীয় স্তরে নিজেদের বিজেপির প্রধান বিকল্প দাবি করার পর, আজ কেন দিল্লির ১০ জনপথে গিয়ে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে এই ধরনের বৈঠক ও জল্পনার সূত্রপাত হচ্ছে? যে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বকে অতীতে বহুবার হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে, আজ কোন বাধ্যবাধকতায় তাঁরই নেতৃত্বকে মেনে নেওয়ার শর্ত শুনতে হচ্ছে? এটা কি স্রেফ আদর্শগত লড়াই, নাকি জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের ক্ষমতা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক মরিয়া প্রচেষ্টা?

খেলাটা কিন্তু জাতীয় স্তরে বেশ জমে উঠেছে। শুভঙ্কর সরকারের এই ঝাঁঝালো বয়ান প্রমাণ করে দিচ্ছে, দিল্লিতে শীর্ষ স্তরে হয়তো কোনো সমীকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে, কিন্তু বাংলার মাটিতে কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মীরা সহজে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে রাজি নন। এখন দেখার, জাতীয় স্তরে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে শেষ পর্যন্ত রাহুলের ‘শর্ত’ মেনে হাত ধরা হবে, নাকি এই জল্পনা জল্পনাতেই শেষ হবে।