প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে টাইমিং এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ—এই দুটি জিনিস অনেক না বলা কথার উত্তর দিয়ে দেয়। আজ কলকাতা বিমানবন্দরে ঠিক তেমনই এক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। বিগত বেশ কিছুদিন দিল্লিতে রাজনৈতিক ক্যাম্পিংয়ে থাকার পর অবশেষে আজ কলকাতায় ফিরলেন যাদবপুরের বিদায়ী সাংসদ তথা যুব তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। কিন্তু তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে তৈরি হলো এক নতুন রহস্য। কলকাতা বিমানবন্দরে যখন তিনি পা রাখলেন, তখন তাঁর মাথায় টুপি এবং মুখ কাপড়ে ঢাকা! সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা এবং প্রশ্ন এড়াতেই কি এই মরিয়া চেষ্টা? যে নেত্রী কিছুদিন আগেও যেকোনোও রাজনৈতিক ইস্যুতে চড়া সুরে ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতেন, আজ তাঁর এই মৌনতা এবং লুকোচুরি কেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে চরম অভ্যন্তরীণ সংকট ও কোন্দল তৈরি হয়েছে, তা এখন রাজনৈতিক ওপেন সিক্রেট। দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এক বড়সড় ভাঙনের গুঞ্জন। রাজনৈতিক মহলের জোর জল্পনা, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের শিবিরে নাকি নাম লিখিয়েছেন সায়নী ঘোষও। শুধু তাই নয়, সূত্রের দাবি, দিল্লির সেই বিক্ষুব্ধ শিবিরের একটি চিঠিতে নাকি ইতিমধ্যে সইও করেছেন তিনি। লোকসভার ইউসুফ পাঠান কিংবা শত্রুঘ্ন সিনহাদের মতো হেভিওয়েটদের পাশাপাশি সায়নীর মতো একদা কট্টর মমতা-অনুগামীর নাম এই তালিকায় জড়ানোয় চরম অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। তবে কি সত্যিই ‘দিদি’-র পাশ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন এই যুবনেত্রী?

গত কয়েকদিন ধরে সায়নী ঘোষের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দলের ভেতরেই তুমুল টানাপোড়েন চলছিল। জানা গেছে, দলের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতে তিনি দীর্ঘক্ষণ নিষ্ক্রিয় ছিলেন, যা নিয়ে দলের অন্য নেতারাও গ্রুপ চ্যাটেই তাঁর অবস্থান ও আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। দলের অন্দরে যখন তাঁকে নিয়ে এই প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই দিল্লিতে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের তৎপরতা এবং এনডিএ (NDA) শিবিরের সাথে যোগাযোগের জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। দলের অন্দরের নির্দেশ এড়িয়ে দিল্লিতে এই দীর্ঘ অবস্থানের নেপথ্যে আসলে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন খোদ সায়নীও।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন অনেকটাই বদলে গেছে। বিগত নির্বাচনে মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে একাধিপত্য চিরকাল চলে না। ফলে বর্তমানে ক্ষমতা হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া এই রাজনৈতিক দলের দম্ভ নিয়ে এখন সাধারণ মানুষের মনেই প্রশ্ন উঠছে। যে দলের সাংসদেরা নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে খোদ শীর্ষ নেতৃত্বের হাত ছেড়ে নতুন বিকল্প খুঁজছেন, সেই দলের সাংগঠনিক রাশ যে কতটা আলগা হয়েছে, তা সায়নীর এই অন্তর্ধাম এবং রহস্যময় প্রত্যাবর্তনই প্রমাণ করে দিচ্ছে। আজ বিমানবন্দরে সায়নী ঘোষের এই মুখ ঢেকে গাড়ি চেপে চম্পট দেওয়ার দৃশ্যটি আসলে এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের প্রতীক। দিল্লিতে বিক্ষুব্ধদের তালিকায় নাম জড়ানোর পর, কলকাতায় ফিরে তিনি কি দলের মুখোমুখি হবেন? নাকি খুব শীঘ্রই অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন? সময় সব উত্তর দেবে, তবে সায়নী ঘোষকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই তীব্র জল্পনা যে জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।