প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-জাতীয় রাজনীতিতে বিরাট সমীকরণ বদল। বড়সড় ভাঙন দেখা দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করে দল ছেড়েছিলেন ২০ জন লোকসভা সাংসদ। এবার তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে। শুধু তাই নয়, নতুন এই শিবিরের পক্ষ থেকে সরাসরি জানানো হয়েছে, আগামী দিনে তাঁরা কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোটের শরিক হিসেবেই কাজ করবেন। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আজ নয়াদিল্লিতে মুখ খুলেছেন বীরভূমের সাংসদ তথা এই বিক্ষুব্ধ শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ শতাব্দী রায়। আগামী দিনে তাঁদের রণকৌশল এবং সংসদীয় পদক্ষেপ ঠিক কী হতে চলেছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শতাব্দী রায় আজ সরাসরি ঘোষণা করেন, “আমরা আগামী দিনে এনডিএ-র সহযোগী বা শরিক হিসেবে কাজ করব।” তিনি জানান, ইতিপূর্বেই ১৯ থেকে ২০ জন বিক্ষুব্ধ লোকসভা সাংসদ একযোগে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেছেন। স্পিকারের কাছে নিজেদের সই সংবলিত চিঠি জমা দিয়ে লোকসভায় তাঁদের জন্য এনডিএ শিবিরের দিকে বসার আসন বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদে পৃথক ব্লক বা দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রতীক ব্যবহারের অধিকার নিয়ে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তা নিয়েও আজ মুখ খোলেন বীরভূমের সাংসদ। তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাঁদের এই নতুন শিবির মূল দলের প্রতীকের ওপর কোনো দাবিদাওয়া পেশ করছে না। তবে কীর্তি আজাদ বা সাগরিকা ঘোষের মতো নেতারা যে আইনি ও সংসদীয় প্রশ্ন তুলছেন, সে প্রসঙ্গে শতাব্দীর বক্তব্য, “বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে লোকসভার স্পিকারের এক্তিয়ারভুক্ত। স্পিকারই আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”

হঠাৎ এই রাজনৈতিক দলবদলের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শতাব্দী রায় বলেন, “রাজনীতিতে এবং সংগঠনে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। মানুষের চিন্তাভাবনা এবং দৃষ্টিভঙ্গিও বদলায়।” তিনি আরও জানান, আপাতত সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিয়ে NCPI-এর ছাতার তলায় থেকেই তাঁরা একটি স্বাধীন ব্লক হিসেবে এনডিএ-কে সমর্থন জোগাবেন। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে পরবর্তী রণকৌশল নির্ধারণ করা হবে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে বাংলায় বড়সড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটে গিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে ক্ষমতা হারিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বাংলায় ক্ষমতার এই পটপরিবর্তনের পর থেকেই দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ ও ভাঙনের চোরাস্রোত বইছিল। শেষ পর্যন্ত ২০ জন লোকসভা সাংসদ একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করায় দিল্লির বুকেও বড়সড় ধাক্কা খেল এই রাজনৈতিক শক্তি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ২০ জন সাংসদ একযোগে দল ছাড়ায় সংসদীয় দলত্যাগ বিরোধী আইনের হাত থেকেও রেহাই পেয়ে যেতে পারেন বিক্ষুব্ধরা, যা দিল্লির রাজনীতিতে মোদী সরকারের হাতকে আরও শক্তিশালী করল।