প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর প্রথম বিধানসভা অধিবেশনেই সামনে চলে এল ‘কালীঘাট পন্থী’ শিবিরের নজিরবিহীন গৃহযুদ্ধ ও অন্তর্কলহ। জনগণের রায়ে ক্ষমতা হারিয়ে এমনিতেই ব্যাকফুটে মমতাপন্থীরা, তার ওপর খোদ বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলনেতার পদ কেড়ে নেওয়া দলবদলু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রতর নাম না করে তাঁকে ‘চাটনচরিত’ এবং ‘পিঠে ছুরি মারা’ নেতা বলে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, নতুন জমানায় বিধানসভার অন্দরে দলের রাশ কার হাতে থাকবে— তা নিয়ে মমতা শিবিরের এই চরম ছটফটানি ও কাদা ছোড়াছুড়ি আদতে তাঁদের রাজনৈতিক দেউলিযাপনাকেই প্রমাণ করছে।

সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ নিজের চিরপরিচিত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁরা কোনো অবস্থাতেই “পিছনের দরজা দিয়ে হওয়া বিরোধী দলনেতাকে” মানেন না। ঋতব্রতকে নিশানা করে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “আমরা চাটনচরিতকে মানি না। বালিশ চাটা রাজনীতি করি না।” কুণালের অভিযোগ, সিপিএম পর্ব মেটার পর যাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন, রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমতার লোভে অনৈতিকভাবে পিঠে ছুরি মেরেছেন। বিদ্রোহী শিবিরকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ক্ষমতার মোহে যারা দিল্লির গ্যারেজের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, সেই ‘চাটন ঋত’র কাছ থেকে কোনো সময় বা দয়া পাওয়ার পক্ষপাতী তাঁরা নন।

মজার বিষয় হলো, নিজের দলের তথাকথিত বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ভরসা না পেয়ে কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিধায়করা সটান হাজির হয়েছিলেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে। বিজেপি শিবিরের কটাক্ষ, নিজেদের ঘরে কামড়াকামড়ি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কুণালদের এখন বিধানসভায় মুখ খোলার সময়টুকু পাওয়ার জন্যেও বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর ‘দাক্ষিণ্য’ ও রাজধর্মের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য তাঁদের আশ্বস্ত করে আলাদা ঘর ও বক্তৃতার জন্য বিশেষ সময় বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন। কুণাল ঘোষও বাইরে এসে স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা ঋতব্রতর কাছে ভিক্ষা না চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকেই নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করে নিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুণাল ঘোষের এই তীব্র ক্ষোভ আসলে এক গভীর হতাশার বহিঃপ্রকাশ। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর দলের বিধায়করা যখন একে একে বিদ্রোহী হয়ে ঋতব্রতর শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন, তখন কুণালরা কেবলই ‘গদ্দার’ তকমা দিয়ে নিজেদের রক্তক্ষরণ ঢাকার চেষ্টা করছেন। বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট বার্তা, জনতা যাঁদের ছুড়ে ফেলেছে এবং নিজেদের বিধায়করাই যাঁদের নেতৃত্বকে অস্বীকার করছেন, বিধানসভার অলিন্দে দাঁড়িয়ে তাঁদের এই ‘বালিশ চাটা’ বা ‘চটি চাটা’র কুৎসিত শব্দযুদ্ধ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের দুর্গ এখন পুরোপুরি নেতৃত্বহীন ও খণ্ডবিখণ্ড।