প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার তারাতলায় ব্রেস ব্রিজের কাছে ভয়াবহ গুদামঘর বিপর্যয়ের পর, দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সৌজন্য এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণত এই ধরনের বড়সড় দুর্ঘটনার পর রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি বা ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই দীর্ঘ প্রেস কনফারেন্স করার যে দস্তুর দেখা যায়, তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “এখন রাজনীতি বা বড় ভাষণ দেওয়ার সময় নয়, লক্ষ্য শুধু ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা প্রাণগুলোকে বাঁচানো”।
বুধবার বিকেলে তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উদ্ধারকার্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেও কোনো দীর্ঘ বা রাজনৈতিক বক্তব্য রাখতে রাজি হননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এনডিআরএফ (NDRF), ভারতীয় সেনা (Army), এসডিআরএফ (SDRF) এবং দমকলের কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছেন। ভিআইপি-দের উপস্থিতির কারণে বা বড়সড় সাংবাদিক বৈঠকের হট্টগোলে উদ্ধারকারীদের মনঃসংযোগ যেন বিন্দুমাত্র নষ্ট না হয়, সেটাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, যেহেতু বর্তমানে রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন চলছে, তাই নিয়মানুযায়ী এই দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত, এর পেছনে থাকা গাফিলতি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক প্যাকেজ বা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত সমস্ত বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় বিধানসভার মেঝেতেই পেশ করা হবে। দুর্ঘটনাস্থলকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রচারের ময়দান করতে চান না বলেই তিনি গ্রাউন্ড জিরো থেকে দ্রুত সরে যান, যাতে উদ্ধারকারী দলগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের কাজ করতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই। যেখানে বিপর্যয় নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়তে সময় লাগে না, সেখানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই “কাজের কাজকে অগ্রাধিকার” দেওয়ার বার্তা এক ইতিবাচক নজির সৃষ্টি করল। এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, ভেতরে আরও ১২ থেকে ১৮ জন আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সেনার সঙ্গে আটকে থাকা ব্যক্তিদের যোগাযোগ স্থাপন হওয়ায় আশার আলো দেখছে প্রশাসন।