প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য বিধানসভায় ওবিসি (OBC) সংশোধনী বিল পাসকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক নাটক। অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের পেশ করা জোড়া বিলের বিরোধিতায় ভোটাভুটির ঠিক আগেই অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ বা ওয়াকআউট করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল (বিদ্রোহী অংশ) বিধায়কেরা। যদিও এই ওয়াকআউটকে কেন্দ্র করে ঋতব্রত শিবিরের অন্দরেই চরম বিভ্রান্তি ও সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পেয়েছে।

আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বিলের বিরুদ্ধে ডিভিশন বা ভোটাভুটি দাবি করলে স্পিকার রথীন্দ্র বসু তাতে সম্মতি দেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঋতব্রত তৃণমূলের বিধায়কেরা কক্ষত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তবে ওবিসি বিলের বিরোধিতা নাকি ওয়াকআউট—তা নিয়ে বিধায়কদের মধ্যে চরম ধন্দ তৈরি হয়। সন্দীপন বা শিউলির মতো বিধায়কেরা দ্রুত বেরিয়ে গেলেও, অনেকেই সময়মতো বেরোতে পারেননি। এই বিশৃঙ্খলার জন্য স্পিকার তাঁদের ভর্ৎসনাও করেন।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওয়াকআউটের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও তাঁর শিবিরের অন্তত ৬ জন বিধায়ক শেষ পর্যন্ত অধিবেশন কক্ষেই থেকে যান। কাজল শেখ, বাইরন বিশ্বাস, মোশারফ হোসেন এবং তৌফিকুর রহমানের মতো বিধায়কেরা কক্ষত্যাগ না করে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজেদের আসনেই বসে থাকেন।

ঋতব্রত শিবির ভোটদানে বিরত থাকলেও ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ভোটাভুটিতে অংশ নেয়। শেষ পর্যন্ত বিলের পক্ষে ১৮৬ টি এবং বিপক্ষে ১৭ টি ভোট পড়ে বিলটি পাস হয়। ৬ জন বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন।

বিল পাসের পরেই ঋতব্রত শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করেন ‘কালীঘাটপন্থী’ তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিধানসভার ভিতরে থেকে যাওয়া ৫-৬ জন বিধায়ককে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি ঋতব্রত শিবিরের এই সিদ্ধান্তহীনতা ও রাজনৈতিক অবস্থানকে খোঁচা দেন।