প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শেষ পর্যন্ত আশঙ্কাই সত্যি হলো। আগামী ২১ জুলাই কলকাতার রাজনৈতিক ভরকেন্দ্র ধর্মতলায় ‘শহিদ দিবস’ পালন করার অনুমতি পেল না তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও পক্ষই। আজ, ৩০ জুন বিকেলে স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করে কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজার জানিয়ে দিয়েছে, ভিক্টোরিয়া হাউসের ঐতিহ্যবাহী সভাস্থলে এবার আর কোনও সমাবেশ করা যাবে না। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী ‘আসল তৃণমূল’— দুই শিবিরের আবেদনই খারিজ হয়ে গেল।

কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা আজ একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন। লালবাজারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বস্ত সূত্রে খবর মিলেছে যে ধর্মতলা চত্বরে হিংসাত্মক বিক্ষোভ বা আইনশৃঙ্খলার বড়সড় অবনতি ঘটতে পারে। এই নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে আগামী ২ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত (মোট ৬০ দিন) ভিক্টোরিয়া হাউস ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (যা পূর্বে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা ছিল) জারি করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ওই চত্বরে কোনও ধরনের রাজনৈতিক জমায়েত, মিছিল বা সমাবেশ করা আইনত দণ্ডনীয়।

তৃণমূলের অন্দরে সাম্প্রতিক ফাটল ধরার পর থেকেই ২১ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক মঞ্চের দখল নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে দড়ি-টানাটানি চরম আকার ধারণ করেছিল। উভয় পক্ষই ওই নির্দিষ্ট জায়গায় সভার অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে লিখিত আবেদন জানায়।পরিস্থিতি আরও জটিল হয় গত রবিবার, যখন অনুমতি মেলার আগেই কালীঘাট শিবিরের নেতা কুনাল ঘোষ ও দোলা সেন ধর্মতলার রাস্তায় ফিতা দিয়ে মঞ্চের মাপজোক শুরু করেন। ব্যস্ত রাস্তায় যানজট তৈরির অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলাও দায়ের করে। এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য বিধানসভাতেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া সমালোচনা করেন। মূলত যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং দুই বিবদমান গোষ্ঠীর মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতেই পুলিশ এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যুর পর থেকে এই দিনটি তৃণমূলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক আবেগ। বিগত তিন দশক ধরে ধর্মতলার এই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েতে প্রধান ভাষণ দিয়ে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের এই ‘না’ রাজনৈতিকভাবে দুই শিবিরের কাছেই বড় ধাক্কা।লালবাজারের এই সিদ্ধান্তের পর ঋতব্রত শিবিরের মুখ্য সচেতক তথা রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান জানান, তাঁরা সাধারণ মানুষের অসুবিধা না করে কীভাবে শহিদ দিবস পালন করা যায়, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে, লালবাজারের নিষেধাজ্ঞা জারির পরই কালীঘাট তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব কলকাতার অন্য কোনও বড় মাঠ বা বিকল্প ভেন্যুর খোঁজে তৎপরতা শুরু করেছে।