প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের লক্ষাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকার পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আসন্ন দুর্গাপূজা তথা আগামী অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের কোথাও কোনো হকার উচ্ছেদ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নবান্নে হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই মানবিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সরকারের এই ঘোষণায় আপাতত বড়সড় স্বস্তি মিলেছে হকার মহলে।

বৈঠক শেষে হকার্স সংগঠনের নেতৃত্ব জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে উৎসবের মরশুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো হকারকে তাঁদের রুজি-রুটি থেকে বঞ্চিত করা হবে না। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করেই অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু উচ্ছেদ স্থগিত রাখাই নয়, হকারদের স্থায়ী সমাধানের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে এই বৈঠক থেকে। প্রকৃত ও বৈধ হকারদের চিহ্নিত করে তাঁদের সরকারি অব্যবহৃত ফাঁকা জায়গায় পুনর্বাসন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। হকারদের আইনি স্বীকৃতি ও সঠিক নিয়মে ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থায়ী পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।ব্যবসা টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি সাধারণ পথচারীদের হাঁটার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দিয়েছে প্রশাসন। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার নিউমার্কেট, রাজাবাজার এবং মেটিয়াবুরুজের মতো তীব্র যানজটপ্রবণ ও ব্যস্ততম এলাকার প্রশস্ত রাস্তা ও ফুটপাথগুলোকে যতটা সম্ভব দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে জনজীবনে কোনো সমস্যা না তৈরি হয়। রাজ্যের বিভিন্ন রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় হকার উচ্ছেদের বিষয়টি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত।

তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই গরিব পরিবারগুলোর রুজি-রুটির কথা মাথায় রেখে মানবিকতার খাতিরে রাজ্য প্রশাসন খুব শীঘ্রই রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি ইতিবাচক আলোচনায় বসার অনুরোধ জানাবে। হকারদের স্থায়ী নীতি নির্ধারণ এবং ব্যবসার ভবিষ্যৎ গাইডলাইন তৈরি করতে আগামী সপ্তাহেই পৌর দপ্তরের সচিব ও হকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও একটি বিশেষ কার্যনির্বাহী বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রশাসনের এই সহযোগিতাপূর্ণ ও সংবেদনশীল অবস্থানে খুশির হাওয়া রাজ্যের ব্যবসায়ী মহলে।