প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের ধাক্কা সামলানোর মাঝেই এবার নজিরবিহীন সংকটের মুখে রাজ্যের পূর্বতন শাসক দল। তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দলের অন্যতম বিশ্বস্ত ও প্রবীণ নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। শনিবার দুপুরে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন চন্দ্রিমা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আবহে তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগ তৃণমূলের অন্দরে এক বিরাট ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সূত্রের খবর, শুধুমাত্র সাংগঠনিক পদই নয়, দল এবং দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের অধীনে থাকা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সিগনেটরি (স্বাক্ষরকারী) পদ থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এই নেত্রীর এভাবে সম্পূর্ণ দূরত্ব তৈরি করার সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর, গত ৩রা জুন দলের সাংগঠনিক রদবদল ঘটিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে রাজ্য সভাপতির গুরুদায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকে দলনেত্রীর প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতেই তাঁকে সামনের সারিতে সক্রিয় থাকতে দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ কী এমন ঘটল যে মাত্র এক মাসের মাথায় তাঁকে পদত্যাগ করতে হলো, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার অলিন্দে তৈরি হওয়া তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং দলের একাধিপত্যের রদবদলের জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন চন্দ্রিমার মতো প্রবীণ নেতৃত্ব। চন্দ্রিমার এই প্রস্থান নেত্রীকে দল পরিচালনায় আরও নিঃসঙ্গ করে তুলল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।