প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নিতে চলেছে এই হাইপ্রোফাইল মামলার জল? আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরপর দু’বার এড়িয়ে গেলেন হাজিরা। বুধবার সকাল থেকেই বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (ACJM) আদালতে ছিল টানটান উত্তেজনা। রাজ্য সিআইডি (CID) ও সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরির বিশেষজ্ঞরা সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করলেও, শেষ পর্যন্ত দেখা মেলেনি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর এর পরেই আদালতের কড়া বার্তা, আগামী ১৮ জুলাই সকাল ১০টায় তাঁকে সশরীরে হাজির হতেই হবে।

এদিন সকাল ১০টায় বিধাননগর আদালতে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা (Voice Sample) সংগ্রহের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তিনি উপস্থিত না হওয়ায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে সিআইডি। সরকারি আইনজীবী আদালতের এজলাসে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেন, সাংসদ ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করছেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় অসহযোগিতা করছেন। বারবার আদালতের সময় নষ্ট করার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও আবেদন জানায় রাজ্য সিআইডি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি দলের যুক্তি অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, জনসভার অডিও রেকর্ডিংয়ে যে কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে, তা যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের—সেটা তাঁরা অস্বীকার করছেন না। যখন কণ্ঠস্বরটি তাঁর বলেই স্বীকার করে নেওয়া হচ্ছে, তখন নতুন করে ফরেনসিক ল্যাবে ‘ভয়েস স্যাম্পল’ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে হাইকোর্ট এই যুক্তিতে নিম্ন আদালতের নির্দেশের ওপর কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়নি। ফলে সিআইডি-র সমন আইনিভাবে বহালই রয়েছে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ প্রচার পর্বের সময়ে এক জনসভা থেকে বিরোধীদের নিশানা করেছিলেন অভিষেক। অভিযোগ ওঠে, তিনি প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, ভোটের ফলাফল বেরোনোর পর এলাকায় তীব্র আওয়াজে ‘ডিজে’ (DJ) বাজানো হবে। এই মন্তব্যকে ‘ভীতিপ্রদর্শনকারী এবং উস্কানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের হয়, যার তদন্তভার পরবর্তীতে সিআইডি-র হাতে যায়। টানা দু’বার সমন এড়ানোর পর আদালতের এই তৃতীয় তথা চূড়ান্ত সমন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ১৮ জুলাই সকাল ১০টার ডেডলাইনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে হাজিরা দিয়ে নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন, নাকি আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে পুনরায় উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন—তা নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।