প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনীতিতে নজিরবিহীন ভূমিকম্প! বর্ষীয়ান নেতা মদন মিত্র দল ছাড়তেই এবার খোদ কালীঘাট শিবিরে চরম ফাটল ও বিস্ফোরণ ঘটালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগের আবহে আজ ফেসবুক লাইভে এসে কার্যত রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। দলত্যাগীদের তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি নিজের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি এমন এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন, যা শুনে থমকে গিয়েছে রাজনৈতিক মহল। সাফ জানিয়ে দিলেন, “অভিষেক হচ্ছে আপনাদের আয়না। তাই আপনারা চলে যাচ্ছেন। এটা আপনাদের বাহানা।”

দলের কঠিন সময়ে যাঁরা দল ছাড়ছেন বা বিদ্রোহ করছেন, তাঁদের এক হাত নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামটিকে আসলে দল ছাড়ার একটা সস্তা অজুহাত বা বাহানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দলত্যাগীদের তীব্র কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “অভিষেক হচ্ছে আপনাদের আয়না।” অর্থাৎ, অভিষেকের আপসহীন লড়াই এবং সততার সামনে বিদ্রোহীরা নিজেদের আসল কঙ্কালসার রূপ, দুর্বলতা আর অপরাধ দেখতে পাচ্ছেন। সেই নিজেদের আসল রূপ বা পাপ দেখার ভয় থেকেই দলে টিকতে না পেরে পালাচ্ছেন নেতারা।

নেতৃত্বের একাংশের দলবদল ও দলত্যাগের পেছনে কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় এবং সমঝোতার রাজনীতি কাজ করছে বলে তোপ দাগেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, সিবিআই (CBI), ইডি (ED) কিংবা পুলিশের ভয়ে অনেকে মাথা নত করছেন। নিজের স্বার্থ বাঁচাতে এবং পিঠ বাঁচাতে বিরোধীদের ‘ওয়াশিং মেশিনে’ বা নতুন বিদ্রোহী শিবিরে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন।

আজকের লাইভে সবচেয়ে বড় চমক ছিল অভিষেকের প্রতি মমতার অন্ধ ও পাহাড়প্রমাণ সমর্থন। নেত্রী বুক চিতিয়ে বলেন, “অভিষেক বাঘের মতো লড়ে যাচ্ছে এবং আগামী ৫০ বছর ও একাই রাজনীতি করবে।” এখানেই শেষ নয়, সমস্ত জল্পনা ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের অবসান ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, দলের প্রতি অভিষেকের এই লড়াইয়ের জন্য তাঁর বা অন্যদের চোখে যদি অভিষেকের কোনো ভুলত্রুটি বা অন্যায় থেকেও থাকে, তবে তাঁর “সব অন্যায়” তিনি আজ ক্ষমা করে দিয়েছেন।

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের তুলনা টেনে মমতা মনে করিয়ে দেন, অভিষেক ও তাঁর পরিবারের ওপর ২৫-৩০টি মামলা চাপানো হয়েছে। একের পর এক কেন্দ্রীয় সংস্থা দিনরাত হেনস্থা করছে। অভিষেক চাইলে বাকিদের মতো এজেন্সির সাথে একটু লিয়াজোঁ বা ‘সেটিং’ করে সহজেই রেহাই (Relief) পেয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি মেরুদণ্ড বিক্রি করেননি, মাথা নত করেননি। আর সেই কারণেই আজ অভিষেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বাকিরা পালাচ্ছেন বলে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী।

চলতি এই অভূতপূর্ব সাংগঠনিক ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রুদ্ররূপ এবং অভিষেকের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।