প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন ভূমিকম্প! ক্ষমতা হারানোর পর এই প্রথম ‘একুশে জুলাই’-এর শহিদ স্মরণ কর্মসূচি পালন করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে, আজ বিকেলে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভাস্থলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে এক বিস্ফোরক ও রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে দলের অন্দরে তীব্র ভাঙন, অন্যদিকে নতুন বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক কড়াকড়ি—সব মিলিয়ে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আজ কার্যত কলকাতার রাজপথ থেকে রাজ্য কাঁপানো হুঁশিয়ারি ছুঁড়ে দিলেন তিনি।সভাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসন তাঁদের এই গণতান্ত্রিক কর্মসূচি বানচাল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। চারিদিক থেকে বাধা দেওয়া হচ্ছে কর্মী-সমর্থকদের। শুধু তাই নয়, ডেকোরেটর এবং মাইক ব্যবসায়ীদেরও ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে শোনা যায় সেই চেনা লড়াকু হুঙ্কার। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দেন, “আমাদের সভা করতে দিচ্ছে না, মিছিল করতে দিচ্ছে না। কিন্তু তাও মানুষের প্রাণের টানে, আবেগের টানে কর্মীরা চলে আসছেন। মনে রাখবেন, প্রশাসন যদি মাইক কেড়ে নেয়, তবে মাইক ছাড়াই খালি গলায় চিৎকার করে বক্তব্য রাখব, তাও সভা করব!”
হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া মাত্র ২,৫০০ জনের জমায়েতের শর্ত মাথায় রেখেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইনি নিয়ম মেনেই তাঁরা এই মরণপণ লড়াই লড়বেন।এদিকে মমতার এই পরিদর্শনের পরই নবান্ন এবং বিধানসভা চত্বরে রাজনৈতিক পারদ চড়চড়িয়ে বাড়তে শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে মমতার এই কর্মসূচিকে ‘রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচানোর ফ্লপ শো’ বলে কটাক্ষ করেছেন। একই সঙ্গে আজই বিধানসভায় ১৯৯৩ সালের পুলিশ ফায়ারিং-এর আসল তদন্ত রিপোর্ট পেশ হওয়ায় আগামীকালকের এই তারামণ্ডলের সভা ঘিরে এক অভূতপূর্ব টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে গোটা রাজ্যে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘খালি গলার’ হুঙ্কার আগামীকাল কী রূপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।