প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাদল অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড হওয়ার ঠিক পরের দিনই, আজ বৃহস্পতিবার দেশের সংসদ চত্বরে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। গতকালই লোকসভা থেকে পুরো মরসুমের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই শাস্তিতে দমে যাওয়া তো দূরস্ত, আজ সকাল থেকেই সংসদ চত্বরে সম্পূর্ণ একাকী এক ‘হাই-ভোল্টেজ’ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলেন তিনি।
আজ সকালে সংসদের মকর দ্বারের সামনে আচমকাই দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। যেখানে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় ঝুলছে একটি বড় প্ল্যাকার্ড। কখনো সংসদের সিঁড়িতে বসে, আবার কখনো দাঁড়িয়ে একাই চড়া সুরে স্লোগান দিতে শুরু করেন তিনি। তাঁর গলার সেই প্ল্যাকার্ডে স্পষ্ট বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে এক মারাত্মক অভিযোগ— “বিজেপির সঙ্গে সংসদে ২০ জন গদ্দার রয়েছে”।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কল্যাণের এই তির্যক নিশানা মূলত তাঁরই দলের সেই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের দিকে, যাঁরা ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর দল ভেঙে নতুন এনসিপিআই (NCPI) জোটে নাম লিখিয়েছেন এবং সংসদে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) সরকারকে সমর্থন করছেন। গতকাল লোকসভার ভেতরে এই দলছুট সাংসদদের সঙ্গে কল্যাণের তীব্র বাদানুবাদ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়, যার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে “অসংসদীয় ভাষা” ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়েই আজ তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, সাসপেনশনের খাঁড়া নামিয়ে এনে তাঁর মুখ বন্ধ করা যাবে না। দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই জারি থাকবে। একদিকে যখন নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে সংসদের ভেতরে সরকার ও বিরোধী পক্ষ মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়েছে, ঠিক তখনই সংসদ ভবনের বাইরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই একক এবং অভিনব বিক্ষোভ আজ সারা দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে।