প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি ও চাপ আরও বাড়ল আইনি আঙিনায়। রাজ্যজুড়ে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআর (FIR)-কে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা। কিন্তু আজ, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বড়সড় ধাক্কা খেলেন তিনি। এখনই নতুন করে কোনো প্রকার ‘অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ’ দিতে সরাসরি অস্বীকার করল উচ্চ আদালত।

আদালত সূত্রে খবর, রাজ্যজুড়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে মোট ৮টি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়। এই মামলাগুলির ক্ষেত্রে একসময়ের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আইনি সুরক্ষার উদাহরণ টেনে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল অভিষেকের জন্য ‘কম্প্রিহেনসিভ’ বা সার্বিক ব্ল্যাঙ্কেট প্রটেকশন (ঢালাও রক্ষাকবচ) দাবি করেন। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই আর্জি খারিজ করে স্পষ্ট জানান, এভাবে ঢালাও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়া হলে তা তদন্তের গতিকে রুদ্ধ করতে পারে। ইতিমধ্যেই একটি নির্দিষ্ট মামলায় তাঁর সুরক্ষা রয়েছে, তাই এই পর্যায়ে নতুন সুরক্ষার প্রয়োজন দেখেনি কোর্ট।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য সার্বিক রক্ষাকবচ মঞ্জুর না করলেও আদালত তদন্তকারী সংস্থাকে একটি বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৩০ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি। বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে যদি এই আটটি এফআইআর-এর প্রেক্ষিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ (যেমন গ্রেফতারি বা চরম ব্যবস্থা) গ্রহণ করতে হয়, তবে তদন্তকারী সংস্থাকে আগে আদালতকে তা লিখিতভাবে অবগত করতে হবে। আদালতকে না জানিয়ে চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ করা যাবে না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি অন্য মামলায় অভিষেকের চোখে চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রার আর্জি খারিজ করে তাঁকে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে দেখানোর পরামর্শ দিয়েছিল এই একই এজলাস। আর তার পরেই আজ এই ৮টি এফআইআর মামলার শুনানি ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।