প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হলেও তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নাটকের অবসান ঘটছে না। লোকসভা এবং বিধানসভা—একই দিনে দুই হেভিওয়েট নেতার সাসপেনশন ঘিরে এখন তোলপাড় বাংলার রাজনৈতিক মহল। একদিকে রাজ্য বিধানসভা (যেখানে বিজেপি এখন শাসকদল) থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন কুণাল ঘোষ, অন্যদিকে দিল্লির লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এই জোড়া ধাক্কার পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভিন্ন অবস্থান দলের অন্দরের এক গভীর ফাটলকে সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রহস্যজনক নীরবতার পেছনে রয়েছে গত ২১ জুলাইয়ের শহীদ দিবসের মঞ্চে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন ঘটনা। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে প্রকাশ্য বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এর ঠিক পরের দিনই কল্যাণের বিস্ফোরক বয়ান ছিল, “দিদি এত ঘন ঘন বিরক্ত হলে চলবে না।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলনেত্রীর বিরুদ্ধে এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ এবং একই সাথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাশুলই এখন গুনতে হচ্ছে কল্যাণকে। নেত্রীর ‘বিরাগভাজন’ হওয়ার কারণেই দল তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি বলে গুঞ্জন।

অন্য দিকে, বিধানসভায় কুণাল ঘোষের সাসপেনশনের প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তৃণমূল ছেড়ে শাসকদল বিজেপি বা অন্য শিবিরে চলে যাওয়া বিধায়ক ও নেতাদের বিরুদ্ধে বিধানসভার ভেতরে সরব হয়েছিলেন কুণাল। কুণালের দাবি ছিল, দলবদলুদের সুবিধা করে দিতেই তাঁর নাম বক্তা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু কুণাল ঘোষ সরাসরি মমতার অনুগত সৈনিক হিসেবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন, তাই দলনেত্রী মুহূর্তের মধ্যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সুর চড়ান।

লোকসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশনের পেছনে রয়েছে দলত্যাগী শিবিরের মহিলা সাংসদদের প্রতি ‘অশোভন’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর এমনিতেই তৃণমূল ব্যাকফুটে, তার ওপর অন্য মহিলা সাংসদের অবমাননার অভিযোগে কল্যাণের পাশে দাঁড়ানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য রাজনৈতিক ও নীতিগতভাবে অত্যন্ত অস্বস্তিকর।

ফলস্বরূপ, কুণাল ঘোষ যেখানে দলের অনুগত থেকে সহানুভূতি পাচ্ছেন, সেখানে খোদ দলনেত্রীর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এখন কার্যত ‘একঘরে’। ক্ষমতার বাইরে থাকা তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ আগামী দিনে দলটিকে আরও দুর্বল করে কি না, এখন সেটাই দেখার।