প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একই দিনে জোড়া মামলায় দুই সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন ঘিরে আজ আদালত চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার জমি দখল ও জালিয়াতি মামলায় সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। অন্যদিকে, ডেবরা থানায় দায়ের হওয়া চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানা এলাকার ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন সরকারি জমি জাল নথির মাধ্যমে দখল এবং তা কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করার একটি বড় চক্রের হদিস পায় পুলিশ। এই মামলায় আগেই মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে পুলিশের দাবি, এই বেআইনি আর্থিক লেনদেনের পেছনে সুমিত রায়ের সরাসরি যোগ রয়েছে। আইনি গ্রেফতারি এড়াতে সুমিত রায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে আজ সোমবার নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির পর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই আবেদনটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন। এর আগে সুমিতের বিরুদ্ধে লুক-আউট নোটিশ ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল পুলিশ, এমনকি কালীঘাটে অভিষেকের বাসভবনেও তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। আজকের এই রায়ের পর শালবনি মামলায় সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশের আর কোনও আইনি বাধা রইল না।
শালবনি মামলায় বড় ধাক্কা খেলেও ডেবরা থানার চাকরি কেলেঙ্কারি মামলাটিতে স্বস্তি পেয়েছেন সুমিত রায়। সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছিল।আদালতে সুমিতের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন যে, এই মামলায় তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে কোনও প্রত্যক্ষ বা সুনির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক তথ্যপ্রমাণ পুলিশ দেখাতে পারেনি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর নাম জড়ানো হয়েছে। দুই পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর ডেবরা মামলাটিতে সুমিত রায়ের আগাম জামিন মঞ্জুর করে আদালত। তবে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে সুমিত রায়কে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী আধিকারিকের (IO) কাছে হাজিরা দিতে হবে এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
একই দিনে দুই ভিন্ন মামলায় দুই রকম রায় আসায় সুমিত রায়ের আইনি সংকট পুরোপুরি কাটল না। ডেবরা মামলায় স্বস্তি মিললেও শালবনি জমি জালিয়াতি মামলায় জামিন খারিজ হয়ে যাওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে বলে মনে করছে আইনজ্ঞ মহল।