প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ইতিহাস কি তবে চাকা ঘুরে আবার একই জায়গায় ফিরে আসে? একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় যে বিতর্কিত ‘মুকুল-তত্ত্ব’ বা ‘কৃষ্ণ কল্যাণী ফর্মুলা’ জন্ম নিয়েছিল, রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বিধানসভা যেন হেঁটে গেল সেই চেনা পথেই! সব জল্পনা আর রাজনৈতিক মহলের টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে বিধানসভার সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল কমিটি—অর্থাৎ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (PAC)-র নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন ইসলামপুরের বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়াল। রাজনৈতিক মহলে যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তুমুল তোলপাড়। কারণ, খাতায়-কলমে তিনি তৃণমূলের বিধায়ক হলেও, বর্তমানে তিনি ‘ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়’ শিবিরের অন্যতম প্রধান বিদ্রোহী মুখ!
সংসদীয় বা বিধানসভার ঐতিহ্য অনুযায়ী, সরকারি খরচের হিসেবনিকেশ পরীক্ষা করার এই ‘পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি’-র চেয়ারম্যানের পদটি সবসময় প্রধান বিরোধী দলের কোনো বিধায়কের পাওয়ার কথা। এর আগে তৃণমূল জমানায় মুকুল রায়, কৃষ্ণ কল্যাণী কিংবা সুমন কাঞ্জিলালরা খাতায়-কলমে বিজেপিতে থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর তাঁদের বিরোধী কোটায় পিএসি চেয়ারম্যান করা হয়েছিল, যা নিয়ে তখন তীব্র সরব হয়েছিল বিজেপি। এবার বিজেপি শাসিত নতুন জমানায়, বিধানসভার অন্দরে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর নেতাকে এই গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসিয়ে এক মাস্টারস্ট্রোক দেওয়া হলো বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। দলনেত্রীর বৃত্ত থেকে বেরিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে বিদ্রোহী শিবির তৈরি হয়েছে, কানাইয়ালাল আগরওয়াল সেই শিবিরেরই অত্যন্ত বিশ্বস্ত নেতা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভার মোট ৪১টি কমিটির মধ্যে বিরোধী শিবিরের জন্য নির্ধারিত পদগুলির একটা বড় অংশই যেতে চলেছে এই বিদ্রোহী জোটে। যেখানে নওশাদ সিদ্দিকীর মতো আইএসএফ (ISF) বিধায়কও একটি কমিটির প্রধান হচ্ছেন, সেখানে কালীঘাটের মূল তৃণমূল শিবিরের বিধায়কদের স্রেফ কমিটির ‘সদস্য’ হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে!
এই পিএসি চেয়ারম্যান পদের গুরুত্ব কিন্তু সাধারণ নয়। বিধানসভার প্রোটোকল অনুযায়ী, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান রাজ্যের একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমতুল্য পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)-এর আর্থিক অডিট রিপোর্ট স্ক্রুটিনি করা এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের গরমিল ধরতে যেকোনো পদস্থ সরকারি আমলাকে সমন পাঠানোর ক্ষমতা রয়েছে এই কমিটির। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে পরে তৃণমূলে যাওয়া এবং ২০২৬-এ ফের জিতে বিদ্রোহী হওয়া কানাইয়ালালের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন কি তবে তৃণমূলের কফিনে আরও একটা বড় পেরেক? বিধানসভার অন্দরে তৈরি হওয়া এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।