প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর প্রশাসন দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিলেও, নিচু তলায় তা পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না। সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব তোলাবাজির অভিযোগে কড়া বার্তা দিয়ে ২২ জন নেতাকে সাসপেন্ড এবং ২৫০ জনেরও বেশি কর্মীকে শোকজ করেছে। এরই মধ্যে এবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে এক স্থানীয় বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে একটি অবৈধ ব্যবসার কারবার সচল রাখার নামে ২৫ হাজার টাকা তোলা চাওয়ার অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি অডিও ক্লিপ সমাজমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।(বিশেষ সতর্কীকরণ: ভাইরাল হওয়া এই অডিও ক্লিপটির সত্যতা আমাদের সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি।)
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও ক্লিপে (যার সত্যতা প্রমাণিত নয়) এক পুরুষ এবং এক মহিলার কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠছে, স্থানীয় এক মহিলা ওই এলাকায় একটি অবৈধ মাদক বা গাঁজার কারবার সচল রাখতে এবং পুলিশি ঝামেলা এড়াতে স্থানীয় এক বিজেপি নেতার দ্বারস্থ হন। কথোপকথন অনুযায়ী, প্রথমে ওই কাজ গুছিয়ে দেওয়ার জন্য ৩২ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ আলোচনার পর সেই টাকার অঙ্ক কিছুটা কমিয়ে ২৫ হাজার টাকায় রফা করার ইঙ্গিত মেলে। পুরো বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় স্তরে জলঘোলা শুরু হয়েছে।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই তোলাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত স্থানীয় বিজেপি নেতা। তাঁর অনুগামীদের দাবি, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ব্যারাকপুর অঞ্চলে সমস্ত ধরণের সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং অবৈধ মাদক বা মদের ঠেক বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলেরই কিছু রাজনৈতিক বিরোধী এবং কুচক্রী মহল এই নেতার ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে একটি সাজানো অডিও ক্লিপ তৈরি করে বাজারে ছেড়েছে। এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, দলের কোনো বিধায়ক, সাংসদ বা পদাধিকারী যদি দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁকে কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। ইতিমধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব এই ধরণের অভ্যন্তরীণ বেনোজল রুখতে সক্রিয় হয়েছে। ব্যারাকপুরের এই নির্দিষ্ট ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অডিও ক্লিপটির ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সত্যতা যাচাইয়ের পরেই আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।