প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার আবেদন মঞ্জুর করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ববর্তী রায়কে খারিজ করে সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ৩ সপ্তাহের জন্য বিদেশে যেতে পারবেন। শুনানি চলাকালীন ব্যক্তিগত চিকিৎসার স্বাধীনতার সপক্ষে সওয়াল করে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পর্যবেক্ষণ করেন, “প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের পছন্দমতো চিকিৎসা বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র এটি নির্ধারণ করতে পারে না যে একজন ব্যক্তি কোথায় চিকিৎসা করাবেন।”

আদালত অভিষেকের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিলেও বেশ কিছু আইনি শর্ত বাধ্যতামূলক করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর কূটনৈতিক (Diplomatic) পাসপোর্টের মাধ্যমেই বিদেশ যাত্রা করতে হবে। বিদেশযাত্রার আগে তাঁর ফ্লাইটের টিকিট, থাকার জায়গা, যে হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে তিনি যাচ্ছেন, তার সম্পূর্ণ বিবরণ (Itinerary) তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দিতে হবে। অভিষেকের আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, সুরক্ষার খাতিরে তাঁর এই বিদেশযাত্রার সূচি বা বাসস্থানের ঠিকানা জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় চোখে গুরুতর চোট পাওয়ার পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমেরিকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে নিয়মিত চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন একটি জনসভায় কথিত উসকানিমূলক বা বিতর্কিত মন্তব্য (Hate Speech) করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় আগাম জামিন বা আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার শর্ত হিসেবেই তাঁর বিদেশযাত্রার ওপর কড়াকড়ি জারি ছিল।পরবর্তীতে ৫ আগস্ট, কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিষেকের বিদেশযাত্রার আবেদন খারিজ করে দেন। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, অভিষেককে কলকাতার রাষ্ট্রায়ত্ত এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের একটি মেডিকেল বোর্ডের মুখোমুখি হতে হবে এবং বোর্ড যদি মনে করে তবেই বিদেশ যাওয়ার অনুমতি মিলবে। অভিষেক এই বোর্ডে উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানালে হাইকোর্ট মামলাটি খারিজ করে, যার বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

আদালতে শুনানির সময় সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস.ভি. রাজু সওয়াল করেন যে, ভারতেও চোখের অত্যন্ত উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো রয়েছে, তাই বিদেশ যাওয়ার কোনো আবশ্যিক প্রয়োজনীয়তা নেই। তিনি আবেদনকারীর স্বাস্থ্যগত দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র মেডিকেল পর্যালোচনারও অনুরোধ জানান। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানায় যে, ব্যক্তিগত অসুস্থতা বা শারীরিক চিকিৎসার বিষয়গুলি “গোপনীয়তার অধিকার” (Right to Privacy)-এর আওতাভুক্ত এবং এটি তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। সুপ্রিম কোর্টের এই চূড়ান্ত রায়ের ফলে অভিষেকের সেপ্টেম্বর মাসে চোখের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার আইনি পথ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেল।