প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের সরকারি চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্য দফতর। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের একাংশের ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে সময় দেওয়ার প্রবণতা রুখতে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছেন রাজ্যের নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে কোনও রোগী ভর্তি হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ন্যূনতম ৪৮ ঘণ্টা হাসপাতালে থাকতেই হবে।

বেশ কিছু সরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং বেসরকারি হাসপাতালের অন্দরে রোগী ভর্তি এবং রেফার করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু অনিয়ম স্বাস্থ্য ভবনের নজরে এসেছে। সেই প্রেক্ষিতেই গতকাল স্বাস্থ্য ভবনের উদ্যোগে একটি বিশেষ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডক্টর শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি এখনই কাউকে সরাসরি দোষী বলছি না, তবে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে মেডিক্যাল কলেজ — নানা জায়গায় আমরা কিছু কিছু অনিয়মের আভাস পেয়েছি। সেই কারণেই স্বাস্থ্য ভবনের উদ্যোগে একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে কোনও খামতি বরদাস্ত করা হবে না।”

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহার করে রোগী ভর্তি করার পর নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের বেসরকারি স্তরে স্থানান্তরিত করার অভিযোগ আসছিল। এই ধরনের কারচুপি পুরোপুরি বন্ধ করতেই এই ‘৪৮ ঘণ্টার নিয়ম’ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবেই চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই বড়সড় সংস্কার শুরু হলো।