প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে নাকি শেষ কথা বলে কিছু হয় না! কিন্তু মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষনেতা কুণাল ঘোষের মুখে ‘মহাজোটের’ বাণী শুনে হেসেই আকুল বাংলার রাজনৈতিক মহল। বিজেপিকে রুখতে তৃণমূল, সিপিএম এবং কংগ্রেসকে একজোট হয়ে বুথ পাহারা দেওয়ার যে নজিরবিহীন ডাক কুণাল ঘোষ দিয়েছেন, তা নিয়ে এবার পাল্টা তীব্র কটাক্ষ ও সমালোচনার ঝড় আছড়ে পড়ল রাজ্য রাজনীতিতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবার মুখে এখন একটাই প্রশ্ন: বিগত ১০-১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার সময় যে তৃণমূল বিরোধীদের বুথের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেয়নি, আজ ক্ষমতা চলে যেতেই তাদের বাম-কংগ্রেসের ছাতার তলায় আশ্রয় নিতে হচ্ছে?

কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের দোকান—সবত্রই তৃণমূলের বিগত জমানার পঞ্চায়েত ও বিধানসভা নির্বাচনগুলির ইতিহাস টেনে সমলোচনার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের একাংশের বক্তব্য, বিগত বছরগুলিতে রাজ্যে যখনই কোনো নির্বাচন হয়েছে, তখন বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে না দেওয়া, বুথ দখল করা এবং বিরোধীদের ওপর প্রবল রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালানোর ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠেছিল এই তৃণমূলের বিরুদ্ধেই।আজ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে। ক্ষমতায় এখন বিজেপি। আর ঠিক এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের বাম-কংগ্রেসকে একজোট হওয়ার আহ্বানকে “রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা” এবং “ভয়ের বহিঃপ্রকাশ” বলেই ব্যাখ্যা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন যারা বুথ স্তরে বিরোধী শূন্য করার রাজনীতি করেছে, আজ ক্ষমতা হারানোর পর তাদের মুখে এই বড় বড় গণতান্ত্রিক কথা একেবারেই মানায় না।

কুণাল ঘোষের মুখে এই জোটের বার্তা শুনে ওপর তলার কিছু নেতা নরম সুর দেখালেও, তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বাম ও কংগ্রেসের নিচুতলার কর্মীরা। রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের স্থানীয় কর্মীদের একাংশের সাফ কথা, “তৃণমূল যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন আমাদের কমরেডদের ও কর্মীদের বাড়ি ছাড়া করেছে, মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আর আজ যখন বিজেপি প্রশাসনের সামনে ওরা টিকতে পারছে না, তখন আমাদের ডাকছে বুথ পাহারা দিতে! তৃণমূলের পাপের খেসারত বিরোধীরা দিতে যাবে কেন?”

এদিকে কুণাল ঘোষের এই বার্তাকে তীব্র কটাক্ষ করেছে শাসক দল বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বের দাবি, রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম—দুই কেন্দ্রেই যে বিজেপি বিপুল ভোটে জিততে চলেছে এবং বিরোধীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হতে চলেছে, তা বুথ স্তরের রিপোর্ট দেখেই বুঝে গিয়েছেন কুণাল ঘোষেরা। আর সেই কারণেই পরাজয়ের আগাম অজুহাত তৈরি করতে এবং নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বাম-কংগ্রেসের কাঁধে বন্দুক রাখার চেষ্টা করছে তৃণমূল। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সেই কটাক্ষ, “বুথ পাহারা দিন, মুড়ি-চানাচুর পাঠাব”—যেন কুণাল ঘোষদের এই অসহায়তাকেই আরও বেশি করে উপহাস করেছে। সব মিলিয়ে, ভোটের ঠিক আগের দিন কুণাল ঘোষের এই ‘ঐক্যবদ্ধ’ থাকার সুড়সুড়ি বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূলকে এক চরম অস্বস্তিকর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল। ক্ষমতার দম্ভ চলে যাওয়ার পর এই ধরনের মন্তব্য যে স্রেফ রাজনৈতিক রসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়, তা প্রাক-নির্বাচনী আবহেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।