প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-টলিপাড়ার গ্ল্যামার আর রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ মিলেমিশে একাকার। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার সকালেই গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। আজ সকালে বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের পর তিনি সরাসরি চলে যান রাজ্য বিধানসভায়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-এর উপস্থিতিতে রাজ্যসভা উপনির্বাচনের জন্য নিজের মনোনয়ন পত্র জমা দেন এই তারকা প্রার্থী। তবে এই হাইপ্রোফাইল মনোনয়নের পরেই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে শুরু হয়েছে এক তীব্র রাজনৈতিক তরজা, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে খোদ বিজেপির নিচু তলার কর্মীদের একাংশের সোশ্যাল মিডিয়া ক্ষোভ।

আজ বিধানসভায় কোয়েল মল্লিকের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় হাজির ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া তদারকি করেন। পাশে ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। বিজেপি শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের এই তৎপরতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নতুন জমানায় কোয়েল মল্লিককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে নবান্ন ও মুরলীধর সেন লেন। মনোনয়ন জমা দিয়ে কোয়েল মল্লিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি রাজ্যের মানুষের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করতে চান।

শীর্ষ নেতৃত্ব কোয়েল মল্লিককে সাদরে স্বাগত জানালেও, এই যোগদানের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গ্রুপে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে, যা এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দলের দীর্ঘদিনের পুরনো কর্মী ও বুথ স্তরের লড়াই করা কর্মীদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে সহজে মেনে নিতে পারছেন না। দলের সমর্থকদের একাংশকে ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ কর্মীদের একাংশের করা মন্তব্য, “যারা বছরের পর বছর দলের জন্য মার খেলেন, জেল খাটলেন, তাঁদের ব্রাত্য করে বারবার কেন অন্য দল থেকে আসা সেলিব্রিটিদের সরাসরি দিল্লির টিকিট দেওয়া হবে?” একাংশের অভিযোগ, কয়েকমাস আগেও যিনি অন্য শিবিরের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তিনি দলে এসেই সরাসরি শীর্ষস্তরের পদ পেয়ে যাচ্ছেন। এতে নিচু তলার কর্মীদের মনোবল ধাক্কা খেতে পারে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই সমালোচনা কোনো ব্যক্তি বিশেষের বা সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব দাবি নয়, বরং এটি রাজপথের লড়াই বনাম ড্রয়িংরুমের গ্ল্যামারের এক চিরাচরিত দ্বন্দ্ব, যা যেকোনো বড় রাজনৈতিক দলেই দেখা যায়। এর আগেও বিভিন্ন নির্বাচনে তারকা প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হলে নিচু তলার কর্মীদের মধ্যে এমন ক্ষোভের সঞ্চার হতে দেখা গিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের পর বিজেপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের আদি কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন করা এবং একই সাথে নতুন ও গ্ল্যামারাস মুখদের জায়গা দেওয়া। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও সামাজিক মাধ্যমের অনুযোগকে কতটা গুরুত্ব দেন এবং কীভাবে নিচু তলার কর্মীদের মানভঞ্জন করেন, আগামী দিনে সেটাই হবে দেখার বিষয়।