প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের একক ক্ষমতা প্রয়োগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজ এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বিস্ফোরক অনুসন্ধানী রিপোর্টের সূত্র ধরে দায়ের হওয়া এই মেগা মামলার শুনানিতে আজ সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত হয় সর্বসম্মত হতে হবে, না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত অনুযায়ী হতে হবে—এটাই ভারতের আইন। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা-র তিন বিচারপতির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, কোনো একক ব্যক্তি বা স্বৈরাচারী নির্দেশে দেশের নির্বাচন কমিশন চলতে পারে না।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ২০২৩ সালের ‘চিফ নির্বাচন কমিশনার অ্যান্ড আদার নির্বাচন কমিশনার্স অ্যাক্ট’-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী—মাল্টি-মেম্বার নির্বাচন কমিশনের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বসম্মত অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠের (Majority) মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক। আদালত নির্দেশ দিয়ে বলেছে, যদি মূল নথিপত্র খতিয়ে দেখে প্রমাণিত হয় যে, বাকি দুই কমিশনারের অজান্তে বা তাঁদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে একা সিদ্ধান্ত চাপিয়েছেন প্রধান কমিশনার, তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই সমস্ত পদক্ষেপকে ‘আল্ট্রা-ভায়ার্স’ (Ultra-vires) বা সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করে দেবে।

ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ‘Form-6’-এ আনা প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত বদল নিয়ে আজ নির্বাচন কমিশনের করা একটি প্রচ্ছন্ন দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বেঞ্চ অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়ে বলে, “সুপ্রিম কোর্ট কোনো সংশোধিত Form-6 অনুমোদন করেনি। বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার। যখন অফিশিয়াল রেকর্ড আমাদের সামনে পেশ করা হবে, আমরা দেখতে চাই কার নির্দেশে এবং কার আইনি কর্তৃত্বে এই ফর্মের রদবদল করা হয়েছিল।”

আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং আজকের শুনানিতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত বা তাঁর কাজের ওপর একতরফা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারির জোরালো দাবি জানান। তবে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে একতরফা কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। আইনি প্রক্রিয়ার নিয়ম মেনে অপর পক্ষের ব্যাখ্যা শোনা বাধ্যতামূলক।

সুপ্রিম কোর্ট আজ নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্র সরকার এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিশ পাঠিয়ে ১ সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত জবাব ও হলফনামা পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। সেই সাথে বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর আসল অফিশিয়াল রেকর্ড ও মিটিংয়ের কার্যবিবরণী জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে এই সমস্ত মেগা ফাইল খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত রায় দেবে শীর্ষ আদালত।