প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশজুড়ে ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। এই চরম সংঘাতের আবহেই পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রবীণ আমলাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি নাম ধরে বেনজির হুঁশিয়ারি দিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর একটি বিস্ফোরক পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে।
সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে বাংলার দুই হেভিওয়েট আধিকারিকের ছবি পোস্ট করে সরাসরি লিখেছেন, “বাংলার এসআইআর-এর (SIR) দুই সবচেয়ে বড় কারিগর—যারা পৃথিবীর সমস্ত ধরনের অবৈধ কাজ করেছেন। সুব্রত কাকু আর মনোজ আঙ্কেল, সতর্ক হোন! এবার গোটা দেশ আপনাদের দিকে আসছে। বাঁচতে পারবেন না!”

তৃণমূল সাংসদের আক্রমণের তির মূলত যে দুই আধিকারিকের দিকে, তাঁরা হলেন—সুব্রত গুপ্ত: যিনি বাংলায় SIR বা ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক (Special Roll Observer) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। মনোজ আগরওয়াল: যিনি সেই সময়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) হিসেবে কাজ সামলেছেন।
মহুয়া মৈত্রের এই পোস্টের পরেই পালটা আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমলারা। এই প্রসঙ্গে মনোজ আগরওয়াল কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “প্রমাণ ছাড়া এই ধরনের মনগড়া অভিযোগ করা যায় না। আমি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেছি।” তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, “এনাফ ইজ এনাফ। লিগাল টিমের সঙ্গে কথা বলে ওনার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা (Defamation Case) করা হবে।” তিনি মনে করিয়ে দেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ বা যুক্ত করার ক্ষেত্রে সিইও-র নিজস্ব কোনো ক্ষমতা থাকে না, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নামই নিয়ম মেনে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

এই সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ স্তরে চলা এক নজিরবিহীন টানাপোড়েন। তৃণমূলসহ দেশের বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় আইটি সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে বুথ স্তরের আধিকারিকদের (BLOs) বাইপাস করছেন এবং লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই বিতর্কটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত সোমবারই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, “কমিশনে সর্বসম্মতিক্রমে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে, তা স্থগিত করা হতে পারে।” শীর্ষ আদালতের এই কড়া মনোভাবের পরেই আমলাদের উদ্দেশে এই চরম সতর্কবাণী ছুড়ে দেন তৃণমূল সাংসদ।‌ অন্যদিকে, মহুয়ার এই পোস্টের পালটা সমালোচনা করেছে শাসকদল বিজেপি। বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যিনি নিজেই অতীতে নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন, তাঁর মুখে এমন মন্তব্য মানায় না এবং আইন মেনেই এর ব্যবস্থা হওয়া উচিত। সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের নজরদারির মাঝে বাংলার দুই শীর্ষ আমলাকে মহুয়ার এই খোলা চ্যালেঞ্জ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্ম দিল।