প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দলবদলকারী ২০ জন লোকসভা সাংসদের ভাগ্য নির্ধারণ নিয়ে যখন দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে চরম আইনি টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখনই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার তালতলায় এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফর এক বিরাট রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দেওয়া ৩ নভেম্বরের চরম সময়সীমার (Deadline) ঠিক মুখে খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সুদীপ বাবুর ঘরে গিয়ে পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত বড় কৌশলগত বার্তা। তৃণমূল কংগ্রেসের আপত্তির জেরে দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) আওতায় এই ২০ জন সাংসদের পদ খারিজের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির, যার প্রেক্ষিতেই স্পিকারের তরফ থেকে জবাবদিহি চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।

তৃণমূলের টিকিটে জিতে পরবর্তীতে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের মধ্যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যতম প্রধান মুখ। লোকসভার স্পিকারের পাঠানো চিঠির উত্তর দেওয়ার জন্য সুদীপ বাবুরা আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। এই চরম আইনি ও রাজনৈতিক সঙ্কটের মাঝেই খোদ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান শুভেন্দু অধিকারীর তাঁর বাড়িতে পদার্পণ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানকে অনেকটাই মজবুত করল। বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন যে, জাতীয় স্বার্থে এবং দিল্লির এনডিএ (NDA) সরকারকে শক্তিশালী করতে সুদীপ বাবুরা যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার পাশে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সম্পূর্ণভাবে রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফরের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী আসলে সুদীপ বাবুকে এই বার্তাই দিলেন যে, দিল্লির আইনি লড়াইয়ে নবান্ন তাঁর সাথে সমানভাবে লড়বে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৩ নভেম্বরের ডেডলাইনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে এই হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ বিরোধী শিবিরের ওপর একটি তীব্র মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করল। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এনসিপিআই সাংসদদের আইনি জটিলতা থেকে বের করে আনতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও আইনি সেল ইতিমধ্যেই ব্যাক-চ্যানেলে সক্রিয়। লক্ষ্মীপুজোর আবহে এই মাস্টারস্ট্রোক আগামী ৩ নভেম্বর সংসদের স্পিকারের ঘরে সুদীপ বাবুদের কী আইনি স্বস্তি এনে দেয়, এখন সেটাই দেখার।